মহান ভাষা আন্দোলনের দিনগুলোতে বাংলা ভাষার ওপর বারবার আক্রমণের প্রতিবাদ করেছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সংবাদপত্রগুলো। এ কারণে তাদের ওপর বারবার নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসে। ১৯৫২ সালের ভাষার সংগ্রামের দিনগুলো নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে পার হয়েছে। তখন রাজনীতিমনস্ক শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততার শেষ ছিল না। পোস্টার-ব্যানার তৈরি, ইশতেহার ছাপানো ও বিতরণ, ছাত্রাবাস-ছাত্রাবাসে যোগাযোগ করা তাদের নিত্যদিনের কাজ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু অনেকের ধারণা ছিল না-মুসলিম লীগ সরকার কতটা ফ্যাসিস্ট চরিত্রের হতে পারে!
১৯৫২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ‘পাকিস্তান অবজারভার’-এ মুসলিম লীগ শাসনের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি নিয়ে সমালোচনামূলক সম্পাদকীয় নিবন্ধ ‘ক্রিপটো ফ্যাসিজম’ (ছদ্ম ফ্যাসিজম) প্রকাশিত হয়। এতে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দিনের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। জননিরাপত্তা আইনের সুযোগ নিয়ে পরদিন (১৩ ফেব্রুয়ারি) পূর্ব পাকিস্তানের নুরুল আমীনের সরকার ঘোষণা দেয়-‘পাকিস্তান অবজারভার’ ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রকাশনা নিষিদ্ধ করা হলো। পত্রিকার মালিক ও সাবেকমন্ত্রী হামিদুল হক চৌধুরী ও সম্পাদক আবদুস সালামকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা জামিনে মুক্তি পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলার ছাত্রসভায় সরকারের স্বৈরাচারী পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে ‘অবজারভার’র ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা বাতিলের দাবি তোলা হয়।
সূত্র: যুগান্তর
E/N