ফোনে ভেসে উঠলো কল। রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে বললো আমি জ্বীনের কবিরাজ। সে নাকি আবার বেশ কয়েকটি জ্বীন লালন-পালনও করে। আবার জ্বীন দিয়েই সারিয়ে তুলতে পারেন সকল ধরনের সমস্যা। এই জ্বীন থাকে লোকালয়ে কেউ দেখাও করতে পারবে না তার সাথে। টাকা পাঠালে তাবিজ পাঠায় কুরিয়ারে করে। টাকা না পাঠালে রোগী মারা যাবে তাও জানেন তিনি। এমন ভাবেই প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক লাখ টাকা। অবশেষে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয় এই প্রতারক।
জেলার কচুয়া উপজেলার হাসিমপুর গ্রামের মোসাম্মদ ইবার সাথে তার রোগীকে কল দিতে গিয়ে ভুলে কল গেছে বলে কথা শুরু এর পর ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা। কৌশলে পরিবার সম্পর্কে যেনে হরহামেশাই পরিবারের সদস্যদের নানান সমস্যার কথা বলে দফায় দফায় নিয়েছে কয়েক লাখ লাখ।
রবিউল হোসেন অরুপে জ্বীনের কবিরাজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সহজ-সরল প্রবাসীদের স্ত্রীদের বোকা বানিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে জানান র্যাব-১১ এর উপ-পরিচালক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন|
সিলেটের জৈন্তাপুর নামক ঠিকানা থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে ৫টি তাবিজ পাঠায় প্রতারক। প্রবাসী স্বামীর শারীরিক সমস্যা সমাধান করতে জ্বীনদের ১ লাখ পাঞ্জাবী ও ১ লাখ টুপি ও গরু, ছাগল, মহিষ বলি দেওয়ার নামে মোট ৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। সমস্যা সমাধান না করলে স্বামী ও সন্তান মারা যাবে বলে ভয় দেখায় প্রতারক।
টাকা পাঠিয়েও সুস্থ না হয়ে ফোন করলে তার মোবাইল বন্ধ পায়। এর পর কুরিয়ার পার্সেলে লেখা ঠিকানা সিলেটের জৈন্তাপুর গিয়ে এই কবিরাজকে খোঁজে, ওইখানে এমন নামের কাউকে না পেয়ে কুমিল্লা র্যাব-১১ এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চালিয়ে ১২ জানুয়ারি বিকেলে তার নিজ চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল জ্বীনের কবিরাজ মোঃ রবিউল হোসেন (২৮) কে আটক করতে সক্ষম হয়।
এই বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।