কুমিল্লার সদর দক্ষিন থানা এলাকা থেকে একাধিক প্রতারণামূলক বিয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর নাম করে শশুরবাড়ীর এলাকা হতে অসংখ্য ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া শাকিল মাহমুদ আজাদ ওরফে কাতারি জামাই (২৯) র্যাব-১১র হাতে গ্রেফতার।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক আজাদ শাকিল জানায়- চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, নীলফামারী ও ফরিদপুরে অনেকটা একই রকমভাবে বিয়ে করে কাতারি জামাই সেজে প্রতারণা করে।
গ্রেফতারকৃত শাকিল আজাদ ওরফে কাতারি জামাই (২৯) বিদেশে পাঠানোর নাম করে শশুরবাড়ী এলাকা হতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। বিয়েকে সে প্রতারণার প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নেয়। গোপনে নিজ গ্রামের বাড়ি আসতে গিয়ে র্যাবের জালে ধরা পড়ে এই প্রতারক। আটক প্রতারক আজাদ শাকিল (২৯) কুমিল্লার বরুড়া থানার অশ্বদিয়া এলাকার আবু হানিফের ছেলে।
র্যাবের পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, প্রথমে স্বল্প পরিচিত কারো এলাকায় ঘুরতে যাওয়ার বাহানায় দরিদ্র কিংবা অসচ্ছল পরিবারের মেয়েকে প্রবাসী পরিচয়ে বিয়ে করে। এরপর এলাকায় কাতার প্রবাসী জামাই হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করে। নানান ভাবে ছোট খাটো দান ছদকা করে এলাকার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে। এরপর নানান কৌশলে শশুরবাড়ির এলাকার বেকার যুবকদের প্রবাসে চাকরি দেবার টোপ দিতো। তার ফাঁদে পা দিয়ে যেসব বিদেশ গমন প্রত্যাশী তার নিকটে আসতো প্রথমেই সবার কাছ থেকে ভিসা পাসপোর্ট বানানোর কথা বলে নিয়ে নিতেন মোটা অংকের টাকা।
র্যাব-১১ উপ-পরিচালক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, প্রতারক আজাদ শাকিল ৪র্থ প্রতারণামূলক বিয়েটি করেন খুলনায়। সেখানকার নানান মানুষকে বিদেশে নেবার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ২০১৮ সাল থেকে পলাতক ছিলেন। এ সময় এলাকাবাসীর রোষানলে পড়ে প্রতারক আজাদের ৪র্থ স্ত্রী ও শশুরবাড়ির লোকজন।
ভুক্তভোগীর সাথে কোরআন ছুঁয়ে শপথ করতেও দ্বিধাবোধ করতেন না তিনি। এরপর ভিসা ও পাসপোর্টের বিভিন্ন জটিলতার কথা বলে কিংবা সাময়িক হজ্বের ভিসা দেবার কথা বলে আরো নানানভাবে কয়েক ধাপে টাকা হাতিয়ে নেয় এই কাতারী জামাই।
এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃত প্রতারকের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।