দেশে জোরেশোরে বইছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। পরিস্থিতি দ্রুত ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে। গত ৩ সপ্তাহে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭৮ হাজার। ফলে নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এ দফায় মৃত্যু কম, কিন্তু করোনাক্রান্ত অনেকেই জটিল অবস্থায় আসছেন। এদের সামলাতে হাসপাতালগুলো এখনও শতভাগ প্রস্তুত নয়। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের বিভাগীয়, জেলা-সদর ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর তেমন প্রস্তুতি নেই। কোভিড চিকিৎসায় বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামের ঘাটতি আছে। পিসিআর মেশিন অপ্রতুল, ফলে করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষাই কঠিন। চিকিৎসার অবস্থা এর চেয়েও করুণ। তবে এক্ষেত্রে ঢাকার প্রস্তুতি তুলনামূলক ভালো। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা প্রস্তুতের কাজ চলছে দু-এক স্থানে। অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে। তবে ঢাকায় বড় সমস্যা হচ্ছে নমুনা পরীক্ষা এবং টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে সঙ্গে কথা বলেন সরকার নিয়োজিত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা দলের সদস্য ড. আবু জামিল ফয়সাল। তিনি জানান, সংক্রমণ কমে যাওয়ায় হাসপাতালের কোভিড ইউনিট অবকাঠামোগুলোতে খুব বেশি নজর দেয়নি কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় অনেক যন্ত্র ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো প্রস্তুতিতে পিছিয়ে। এতে রোগী বাড়লে সমস্যা হতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগের উচিত দ্রুততার সঙ্গে ওইসব হাসপাতাল প্রস্তুত করা। অকেজো সরঞ্জামগুলো সচল করা। যাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। এছাড়া যেখানে নতুন চিকিৎসক, নার্স নিয়োগ হয়েছে কোভিড চিকিৎসায় তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করা জরুরি। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কোভিড অবকাঠামো প্রস্তুতিতে নজরদারি বাড়ানো দরকার বলে তিনি মনে করেন।
সূত্র: যুগান্তর
E/N