দৈনিক আলোকিত চাঁদপুর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন এর স্বাক্ষর জাল জালিয়তির অভিযোগের দায়েরকৃত মামলায় ৪ জনকে আটক করেছে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ।
৯ জানুয়ারি রবিবার এসআই কুদ্দুছ এর নেতৃত্বে ষোলঘর এলাকা থেকে মামলার ৩নং আসামী ফখরুল ইসলাম মজুমদার রাছেল, ৪নং সাকিবুল ইসলাম নিশান, ৫নং মাহমুদা আক্তার, ৬নং জান্নাতুল ফেরদাউসকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের সকদি পাঁচগাঁও গ্রামের মৃত. শাহ আলম মজুমদারের ছেলে সায়েদুল ইসলাম মজুমদার দৈনিক আলোকিত চাঁদপুর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন এর স্বাক্ষর জাল করে তার বিরুদ্ধে ৩৭ লাখ টাকা পাওনা দাবী করে চাঁদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং- সিআর ১৮/২০।
উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে বিবাদী জাকির হোসেন ২০২০ সালে ২৮ জানুয়ারি চাঁদপুর আদলতে স্বাক্ষর জালিয়তির অভিযোগে উক্ত মামলার বাদী সায়েদুল ইসলামকে ১নং আসামী করে তার মামলার স্বাক্ষীসহ ৮ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। যার নং- সিআর ৫৭/২০।
অন্যান্য আসামিরা হলোঃ ১নং আসামীর ভাই ২নং মোঃ সাইফুল ইসলাম রাজিব, ৩ মোঃ ফখরুল ইসলাম মজুমদার রাছেল, ৪ মোঃ সাকিবুল ইসলাম নিশান, ২নং আসামীর স্ত্রী ৫নং মাহমুদা আক্তার, মা ৬নং জান্নাতুল ফেরদাউস, মামলার স্বাক্ষী ৭ হানিফ মুজমদার, ৮ নার্গিস বেগম।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিতে প্রেরন করেন। সিআইডির রিপোর্টে স্বাক্ষর জালিয়তির বিষয়টি সুস্পষ্ট ভাবে প্রমানিত হয় এবং সায়দুল ইসলামের সিআর ১৮/২০ নং মামলার ৪ ও ৫ নং স্বাক্ষী এবং জাকির হোসেন এর দায়েরকৃত সিআর ৫৭/২০ এর মামলার ৭ ও ৮ নং আসামীগণ ৩৭ লাখ টাকার মামলার বিষয়ে সিআইডির কাছে জবানবন্ধীতে বলেন, আমাদের স্বাক্ষর নকল করা হয়েছে। আমরা এ টাকা লেনদেনের বিষয়ে কিছুই জানিনা। আমাদেরকে না জানিয়েই মামলার স্বাক্ষী বানিয়েছে। তাই সিআইডি ৭ ও ৮নং আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে বাকি ৬ জনের ষড়যন্ত্র ও সংশ্লিষ্টতায় সম্পৃক্ত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আদলতে রিপোর্ট পেশ করেন। তার প্রেক্ষিতে আদালত গত ২৪/১১/২০২১ ইং তারিখে ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই প্রেক্ষিতে রবিবার ৩, ৪, ৫ ও ৬নং আসামীগণ টাকা আত্মসাতের সিআর- ৩৭৫/১৯ নং মামলার হাজিরা দিয়ে ষোলঘর ক্যাফে নূরের সামনে আসলে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ তাদেরকে আটক করে।
আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে টাকা আত্মসাতের আরো একাধিক মামলা রয়েছে। তারা মহামায়া বাজারসহ চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে গরীব দুঃখী স য় ঋণদান সমবায় সমিতি দিয়ে গ্রাহকের ৩-৪ কোটি টাকা নিয়ে ২০১৬ সালে পালিয়ে যায়।