আজ দেশ স্বাধীনের ৫০ বছর। সারাদেশ যখন লাল-সবুজের উৎসব করছে। ঠিক সেই দিনটিতে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করা বীর সৈনিক মাহবুবুল আলম চুন্নু চিরবিদায় নিলেন। মৃত্যুকালে মরহুমের বয়স হয়েছিলো ৬৫বছর।
বুধবার দিবাগত রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুই দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত হন এই গুণী মানুষটি। হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ প্রাঙ্গনে প্রথম জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গ্রার্ড অব অনার প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আকতার ও হাজীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ হারুনুর রশীদসহ সঙ্গীয় ফোর্স। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ও ১ মেয়েসহ একধিক সংগঠনের শুভানুধায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে যান।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, লেখক ও প্রগতিশীল সমাজের শুদ্ধ বিবেক ছিলেন মাহবুবুল আলম চুন্নু।
কর্ম জীবনে তিনি ছিলেন হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চাঁদপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য, হাজীগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি, সামাজিক সংগঠন অন্বেষার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
বাদ জোহরের নামাজের পর হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজার নামাজ ও বাদ আছর দ্বাদশ ইউনিয়নে ইছাপুরা গ্রামে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ শেষে পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার, হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী মো. মাঈনুউদ্দিন, হাজীগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি, হাজীগঞ্জ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চাঁদপুর জেলা শাখার উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও সামাজিক সংগঠন অন্বেষা।
এছাড়া পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব, হাজীগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, সাপ্তাহিক মানবসমাজ ও পপুলার বিডিনিউজ পরিবার।
দুইদফা জানাজায় হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব, হাজীগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। খবর পেয়ে সকালে মরহুমের বাসভবনে ছুটে যান পৌর মেয়র আসম মাহবুব-উল আলম লিপনসহ পৌর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।