হাফ বা অর্ধেক ভাড়া নিয়ে আন্দোলনটা দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ারও আগের। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছর, এরপর সরকার বদলেছে অনেকবার। কিন্তু শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিয়ে চূড়ান্ত কোনো আইন কিংবা সিদ্ধান্ত—কোনোটাই আসেনি।
ফলে স্বাধীনতার পূর্বে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে এখনো। গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
ইতিহাসে নজর রাখা যাক। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, ১৯৬৯ সালের জানুয়ারিতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের হাত ধরে আসে ১১ দফা দাবি। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (রাশেদ খান মেনন), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (বেগম মতিয়া চৌধুরী), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) আটজন ছাত্রনেতা সম্মিলিতভাবে গঠন করেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
পশ্চিম পাকিস্তানি স্বৈরাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঘোষিত এ ১১ দফা দাবির একটি ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া রাখা। দাবির ১ (ঢ) দফা অনুসারে, ‘ট্রেনে, স্টিমারে ও লঞ্চে ছাত্রদের “আইডেন্টিটি কার্ড” দেখাইয়া শতকরা পঞ্চাশ ভাগ “কন্সেসনে” (ছাড়ে) টিকিট দেওয়ার ব্যবস্থা করিতে হইবে। মাসিক টিকিটেও “কন্সেসন” দিতে হইবে।
বাসভাড়া সম্পর্কে ধারাটিতে বলা হয়েছে, ‘পশ্চিম পাকিস্তানের মতো বাসে ১০ পয়সা ভাড়ায় শহরের যেকোনো স্থানে যাতায়াতের ব্যবস্থা করিতে হইবে। দূরবর্তী অঞ্চলে বাস যাতায়াতেও শতকরা ৫০ ভাগ “কন্সেসন” (ছাড়) দিতে হইবে। ছাত্রীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত বাসের ব্যবস্থা করিতে হইবে। সরকারি ও আধা সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছাত্রদের শতকরা ৫০ ভাগ “কন্সেসন” দিতে হইবে।
সূত্র: প্রথম আলো
E/N