জীবন যাত্রায় সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বা মনোভাব সরকারের মধ্যে নেই তা আবারও প্রমাণ হল। টেলিভিশনের সংবাদেই দেখলাম একজন ভোক্তা বললনে, ‘সরকার কি আমাদের কথা ভাবে?’
একথা বলছি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোরে প্রেক্ষাপটে। দেশে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম একলাফে লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর সংবাদ ইতিমধ্যে পাঠকেরা জেনে গেছেন। সরকারের পক্ষে জ্বালানি মন্ত্রণালয় গত বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দামের কথা জানিয়ে দেয়। ওইদিন রাত ১২টা থেকেই নতুন দর কার্যকর করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে ডিজেল ও কেরোসিন তেলের নতুন দর হবে প্রতি লিটার ৮০ টাকা, যা এত দিন ৬৫ টাকা ছিল। এর আগে ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম সর্বশেষ কমানো হয়েছিল।
মূলত ট্রাক, বাসসহ পরিবহনের জ্বালানি হিসেবেই ডিজেলের ব্যবহার বেশি। ফলে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি মানেই পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা। আবার ট্রাকভাড়া বাড়লে সব পণ্যের পরিবহন খরচও বাড়বে। বাড়বে উৎপাদন খরচ।
কেন হঠাৎ করে এ দর বৃদ্ধি? জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। এ কারণে প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে জ্বালানি তেলের দাম নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে। আর বর্তমানে যা দর, তাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ডিজেল লিটারে ১৩ টাকা ১ পয়সা ও ফার্নেস তেল ৬ টাকা ২১ পয়সা করে কমে বিক্রি করছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। গত অক্টোবরে বিপিসির লোকসান হয়েছে প্রায় ৭২৭ কোটি টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব এবং বিপিসির আগের লাভ-লোকসান নিয়ে আলোচনা করার আগে প্রতিবেশী একটি দেশের কথা বলা যাক। কারণ, জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিজেই প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের তুলনা দিয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো
E/N