POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ভারত-পাকিস্তান

পপুলার বিডিনিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২১ | সময়: ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

আজ ক্রিকেট দুনিয়ার সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচ। দুই বছরের বেশি অপেক্ষার পর দেখা যাচ্ছে আরেকটি ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ। এমন এক ম্যাচের আগে সবাই দুই দলের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করছেন। দুই দলের ইতিহাস, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও শক্তির পার্থক্য সেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে। এদিক থেকে সাবেক পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান বাজিদ খান একটু ভিন্ন পথে হেঁটেছেন। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিশ্বকাপের সবগুলো দল গিয়েই কথা বলেছেন। কথা বলেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেট নিয়ে।

আর উইকেটের আলোচনা করতে গিয়েই ব্যাখ্যা করেছেন, এবার বিশ্বকাপে কেন ভারত ও পাকিস্তানকে নিয়েই বাকিদের দুশ্চিন্তা করা উচিত। সে সঙ্গে আরও বলেছেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বলতে সবাই যেটা বোঝেন সেটা যেন ভুলে যায়। বরং আরব আমিরাতের উইকেটে পুরোনো দিনের ওয়ানডে ক্রিকেটের ঢঙেই খেলতে বলেছেন। ইএসপিএনক্রিকইনফোতে অনুলিখিত তাঁর কলামের চুম্বক অংশ দিয়ে দেওয়া হলো এখানে।

আধুনিক টি-টোয়েন্টি অনেক গতিময় ও আগ্রাসী হয়ে উঠেছ, কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলতে চাইলে ক্রিকেটের পুরোনো দিনগুলোতে ফিরে যেতে হবে—টপ অর্ডারে একটু সময় নিয়ে থিতু হতে হবে এবং উইকেট থাকলে শেষ দিকে ঝড় তোলো। একসময় ওয়ানডে ক্রিকেটে যেভাবে খেলত দলগুলো, আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টিতে এভাবেই খেলতে হয়।

যদি কোনো দলে এখানে ১৮০ তোলে, তার মানে টপ অর্ডারে কেউ ৮০ বা ৯০ রান করেছে। ২০১০ ও ২০১২ সালে ইংল্যান্ড পাকিস্তানকে এখানে বেশ কয়বার হারিয়েছে। এবং আমার মনে আছে, কেভিন পিটারসেন সে ম্যাচগুলোতে প্রায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল।

পাকিস্তান যে এখানে টি-টোয়েন্টিতে এত সাফল্য পেয়েছে, তার কারণ এই ধরনের ক্রিকেট ওদের সঙ্গে খুব ভালো যায়। ১৫০ থেকে ১৭০ রান ওদের জন্য নিরাপদ স্কোর। ওরা এমন ম্যাচ খেলতে চায় না যেখানে স্কোর ২০০ এর আশপাশে থাকে।

আরব আমিরাতে পেশিনির্ভর ক্রিকেট একদম অকার্যকর হয়ে যায়। কারণ, এখানে চার পাঁচজন ব্যাটসম্যান দ্রুত ৩০ বা ৪০ রান এনে দিয়ে ১৮০ এর কাছাকাছি করবে, এমন ঘটনা বিরল। বিশ্বে অন্য কোথাও আরব আমিরাতের মতো উইকেট নেই। এমনকি পাকিস্তানেও আপনি চাইলে প্রথম বল থেকেই বোলারকে মারতে পারবেন।

এখানে ১৮০ রান তোলার একটাই উপায়। আর তা হলো কোনো ব্যাটসম্যান এক প্রান্ত ধরে রাখবে, তার উল্টোদিকে অন্যরা রান করবে। আপনার যদি সাহস বেশি হয়, তাহলে দুজনকে দিয়েও উইকেট ধরে রাখার কাজ করানো যায় এবং পরে রান তোলার গতি বাড়ানো যায়। বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে বেশ সুবিধা এনে দেবে।

এর মানে হলো, খেলোয়াড়ের ভূমিকা এবার নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। আপনাকে এমন কিছু খেলোয়াড় বের করে নিতে হবে যারা ইনিংসের পুরো সময়টা থাকবেন। ১৮০ রান করতে চাইলে ডেভিড মালান, বাবর ও বিরাট কোহলিরা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আপনার প্রথম তিনে থাকা কেউ পুরো ইনিংস ব্যাট করলে এবং ৭০ থেকে ৯০ রান করলেই কেবল আপনি অত রান তুলতে পারবেন। এর পর পেশিনির্ভর ব্যাটসম্যানরা এসে ২০/৩০ রান এনে দিয়ে পার্থক্য গড়ে দিতে পারবে।

এমন উইকেটে ঝড় তোলা ব্যাটসম্যানরা মাঝের ওভারে নামার পর দেখবে যে ব্যাটে বল আসছে না এবং শুরুতে থেকে মারা সহজ না। আর যখন বল ব্যাটে আসবে না এবং অনেক ওভার স্পিন দিয়ে করা হবে তখন আট বা নয়ে নামা ব্যাটসম্যানদের জন্য ছক্কা মারার কাজটা অত সহজ না। অধিকাংশ দলের এমন খেলোয়াড় আছে যারা পেশি নির্ভর এবং বল ব্যাটে আসা পছন্দ করে। তারা স্পিনারের চেয়ে পেসারদের খেলতেই ভালোবাসে। বিশেষ করে, বাঁহাতি স্পিনার যারা স্টাম্পে বল করে, তাদের অপছন্দ করে।

আরব আমিরাতে বোলিংয়ের ক্ষেত্রে, আপনি স্পিনার হলে জোরে বল করতে হবে আর পেসার হলে অনেক বেশি কাটার দিতে হবে। পাওয়ার প্লেতে এমন কাউকে লাগবে যে যতটা সম্ভব সোজা বল করতে পারে। যদি এমন স্পিনার থাকে যারা পাওয়ার প্লেতে বল করতে পারে, তাহলে তো খুবই ভালো। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বাঁহাতি স্পিনার ইমাদ ওয়াসিম স্টাম্পে বল করতে পারে। যেসব স্পিনার জোরের ওপর বল করে, তাদের এখানে খেলা কঠিন। এ কারণেই, আফগানিস্তানের স্পিনার, যেমন রশিদ খানকে এখানে খেলা খুব কঠিন হবে।

আমি বলব, এবার ভারত পাকিস্তানকে নিয়েই সবার দুশ্চিন্তা থাকবে। আইপিএল খেলার কারণে ভারতের খেলোয়াড়দের চেয়ে ভালো প্রস্তুতি আর কেউ নেয়নি। পাকিস্তানও এখানে নিয়মিত খেলে বলে খুব ভালো।

পাকিস্তানের বর্তমান ফর্ম ২০১৬-১৮ এর মতো না। সাবেক কোচ মিকি আর্থারের অধীনে টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড খুব ভালো ছিল। এবং তাঁর সময়ে সাদা বলে উন্নতি করছিল দল। ইমাদ নতুন বলে ও হাসান আলী পুরোনো বলে দারুণ কাজ দেখিয়েছে। আর ২০১৬ থেকে ২০১৮ এর আরব আমিরাতে শাদাব খান ফর্মে ছিল। ২০১৯ বিশ্বকাপেও মোটামুটি ভালো করেছে পাকিস্তান।

বিশ্বের অন্য কোঠাও হলে এই বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ফেবারিট বলা যেত না। কিন্তু আরব আমিরাত তাদের টোয়েন্টির ধরনের সঙ্গে খুব ভালো যায়। টপ অর্ডারে বাবর ও রিজওয়ান ইনিংস ধরতে পারে। আর আরব আমিরাতে আপনি যদি ১৪০ রানও করেন, আপনি ম্যাচে থাকবেন। বিশ্বের অন্য কোথাও এটা কঠিন। কিন্তু পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে সমস্যা আছে। টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে মিডল অর্ডারে স্পিন খেলার মতো ব্যাটসম্যান দরকার।

সূত্র: প্রথম আলো
HO/N

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন