হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় এজারবুক্ত ৭ জনসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় পাঁচ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন ২৯ জন। গ্রেফতারকৃত তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল জানান, সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমেই পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুই হাজার থেকে ২২শ’ জনকে আসামি করে দুটি করে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে গত কয়েকদিনে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিরা আরও আটটি মামলা দায়ের করেছেন। সর্বশেষ মামলা হয়েছে ২০ অক্টোবর বুধবার। প্রতিটি মামলায় অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারশ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।
কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে গত বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাতে হাজীগঞ্জ বাজারে সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায় পুলিশ। সংঘর্ষের পর হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর ৩জন, পরেরদিন কুমিল্লা মেডিকেলে একজন এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনসহ মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়।
মিছিল থেকে প্রথমে জুতা নিক্ষেপ করেন ইসলামি শাসনতন্ত্রের সমর্থক সাহেদাপুর গ্রামের মো: আরিফ হোসেন (২৮)। সে টোরাগড় আল এহসান মাদ্রাসার পরিচালক। তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই দলের সমর্থক মকিমাবাদ ৪ নং ওয়ার্ডের রফিক আহমেদ রাজু (৩০)কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার করা অন্যান্যরা হলো শাহরাস্তি উপজেলার ভোলদিঘি মাদ্রাসার শিক্ষক ও জামায়াত নেতা কামাল উদ্দিন আব্বাসী। অটোচালক শ্রীপুর এলাকার নূরে আলম।
বিএনপি সমর্থিত দক্ষিন রায়চৌঁ গ্রামের মো: নজরুল ইসলাম (৪০), মকিমাবাদ ৬ নং ওয়ার্ডের মো: পারভেজ মিয়াজী (২৯), আলীগঞ্জ গ্রামের মো: মাসুদ মজুমদার (৪৫), মকিমাবাদ ৪ নং ওয়ার্ডের মো: শাহাদাত হোসেন (৩৪), মকিমাবাদ ৪ নং ওয়ার্ডের মো: দিলদার হোসেন (৪৩), মকিমাবাদ ৬ নং ওয়ার্ডের মো: শাহাদাত হোসেন (৪৫), মুকুন্দসার গ্রামের মো: শাহ আলম সালাম (৩২), বড়কুল গ্রামের হাসান আহমেদ (৩১)।
ছাত্রদল সমর্থিত মকিমাবাদ ৪ নং ওয়ার্ডের জোবায়ের হোসেন ওভি (১৮), মকিমাবাদ ৪ নং ওয়ার্ডের মো: রাশেদুজ্জামান(২৭), কাজিরগাঁও গ্রামের রবিন হোসেন শুভ (১৯), মকিমাবাদ ৬ নং ওয়ার্ডের মো: মেহেরাজ হোসেন রাসেদ (২১), মকিমাবাদ ৬ নং ওয়ার্ডের মো: ইব্রাহীম খলিল উল্যাহ্ (১৮), মকিমাবাদ ৬ নং ওয়ার্ডের মো: তানজির হোসেন (২৩), রাজারগাঁও গ্রামের মো: জহির বেপারী (২৮), মধ্য মেনাপুর গ্রামের মো: রিয়াদ হাজী (১৮), মুকুন্দসার গ্রামের মো: আরিফ খান(২৩), মুকুন্দসার গ্রামের মেহেদী (১৮),মকিমাবাদ ৬ নং ওয়ার্ডের তানভীর হোসেন বেলা (২৩), মনিনাগ ১০ নং ওয়র্ডের ইমন (২০), মনিনাগ ১০ নং ওয়র্ডের হৃদয় (২০), পাতানিশ গ্রামের গোলাম রাব্বি (১৯), সিংগাইড় মো: সাগর প্রধানীয়া (২১)।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। কোন সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হবে না।