দেশে ভয়ংকর মাদক আইসের সবচেয়ে বড় চালানসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তারা হলো-আইস সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হোছেন ওরফে খোকন ও তার সহযোগী রফিক।
শনিবার ভোরে যাত্রাবাড়ী থেকে প্রায় ৫ কেজি আইস, বিদেশি অস্ত্র ও গুলিসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া আইসের মূল্য প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা। এ মাদক আসে মিয়ানমার থেকে। শনিবার দুপুরে কাওরান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, মিয়ানমার থেকে আইসের চালান নৌপথে টেকনাফে আসে। প্রাথমিকভাবে সেখানকার বাসা-বাড়িতে রাখা হয়। পরে মাদক ব্যবসায়ীরা নিজস্ব পরিবহণে বিশেষ কৌশলে ঢাকায় সরবরাহ করে। বার্মিজ কাপড় বা আচারের ব্যবসার আড়ালে চলছিল এ ব্যবসা।
এই চক্রে ২০-২৫ সদস্য রয়েছে। এরই মধ্যে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশকে ঘিরে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে আইসের কারখানা। গ্রেফতার ব্যক্তিদের সঙ্গে মিয়ানমারের মাদক ব্যবসায়ীদের রয়েছে গভীর সুসম্পর্ক। সেখান থেকে আনা মাদকের চালান যদি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয় তবে ওই চালানের কোনো বিল পরিশোধ করতে হয় না।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার খোকনের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফে। তার বাবার নাম ইউনুছ। আর রফিক একই উপজেলার সুলতানের ছেলে। তাদের কাছ থেকে দেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গোলাবারুদ, দুটি মোবাইল, তিনটি দেশি-বিদেশি সিমকার্ড ও নগদ ২০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা টেকনাফকেন্দ্রিক মাদক সিন্ডিকেটের সদস্য। এই চক্রটি অন্তত পাঁচ বছর ধরে ইয়াবার কারবার করে আসছে। চক্রের অন্যতম হোতা খোকনের বিরুদ্ধে এর আগে সাতটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। মোহাম্মদ রফিক এই চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। টেকনাফে অটোরিকশাচালকের ছদ্মবেশে মাদক পরিবহণ ও স্থানান্তর করতেন। ঢাকার উত্তরা, বনানী, গুলশান, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তাদের সিন্ডিকেট সদস্য রয়েছে।
র্যাব পরিচালক বলেন, আইস ব্যবসায় জড়িত টেকনাফে ও ঢাকায় অনেকের নাম পেয়েছি। গুলশান, বনানী, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরকেন্দ্রিক বিশেষ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এসব জায়গায় আইস পৌঁছে দেওয়ার জন্যই চালানটি আনা হয়েছিল।
চালান পৌঁছে দেওয়ার পরই টাকা সংগ্রহ করত তারা। যেহেতু মোটা অঙ্কের টাকার বিষয় ছিল, তাই অন্যতম হোতা খোকন সঙ্গে এসেছিল। তিনি বলেন, এক গ্রাম আইসের দাম মিয়ানমারে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা। কিন্তু সেটা বাংলাদেশে বিক্রি হয় ১৫-২০ হাজার টাকায়। কখনো কখনো ২৫ হাজার টাকায়ও এক গ্রাম আইস বিক্রি হয়।
সূত্র:যুগান্তর
R/N