ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোরলেন জাতীয় মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের ১০০ কিলোমিটার এলাকার ৮৪টি ইউটার্ন (গাড়ি ঘোরানোর কাটা জায়গা) দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে। এসব স্থানে যখন-তখন ইউটার্ন নিচ্ছে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট-বড় যানবাহন। এছাড়া গাড়ির চালকদের অসাবধানতা, হঠাৎ করে রং সাইডে (উল্টা পথে) চলাচলসহ নানা কারণে প্রায়সময় ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা।
হাইওয়ে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ১৭ জুন জেলার সদর দক্ষিণের জোড়কানন এলাকায় ইউটার্নে বাসের চাপায় প্রাইভেটকার চালকসহ তিন ব্যক্তি নিহত হন। এ নিয়ে গত আড়াই বছরে জেলার বিভিন্ন ইউটার্নে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। এছাড়া অনেক ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে যা পুলিশের নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
সওজ-কুমিল্লা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোরলেন মহাসড়কের ডিভাইডারের (বিভাজক) দুইপাশ দিয়ে প্রতি মিনিটে কাভার্ডভ্যান, লরি, ট্রাক, বাস-মিনিবাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার ছাড়াও দ্রুতগতির ছোট-বড় অসংখ্য গাড়ি চলাচল করে। এর কুমিল্লা অংশের দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রামের মোহাম্মদ আলী বাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকায় ৮৪টি ইউটার্নের কাটা জায়গা হয়ে উলটো পথেও ছোট-বড় গাড়ি এবং তিন চাকার বিভিন্ন যানবাহনও চলাচল করে। সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, এসব ইউটার্ন দুর্ঘটনাপ্রবণ, অরক্ষিত।
এসব স্থানে যখন-তখন গাড়ি ঘোরানো (ইউটার্ন), তিন চাকার যান চলাচল, রাস্তার মধ্যে যাত্রী ওঠানো-নামানো, ওভারটেকসহ নানা বিশৃঙ্খলা চলছে। এই মহাসড়কের জেলার দাউদকান্দির গৌরীপুর, ইলিয়টগঞ্জ, চান্দিনার মাধাইয়া, দেবিদ্বারের বাগুর, বুড়িচংয়ের নিমসার, আদর্শ সদরের আলেখারচর, সদর দক্ষিণের নন্দনপুর, হারাতলী, পদুয়ার বাজার, উত্তর রামপুর, লইপুরা, চাষাপাড়া, শুয়াগাজি, জোড়কানন, চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার এলাকার ইউটার্ন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্ঘটনাপ্রবণ।
সূত্র: দৈনিক ইওেফাক
H/N