ত্রিশ বছরেও সরকারিকরণ হয়নি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার কালচোঁ মধ্যপাড়া রেজিস্টার বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ক্রমেই ঝরে যাচ্ছে শিক্ষার্থী। হতাশ এখন স্বপ্ন দেখা ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ কালচোঁ মধ্যপাড়া রেজিস্টার বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এ যুগের একটি গোয়ালঘরকে হার মানাবে। ১৯৯১ সালের স্থাপিত হয় বিদ্যালয়টি। সরকারী করণের জন্য ৩৩শতাংশ জমিও রয়েছে বিদ্যালয়টির। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। প্রায় ৮০জন শিক্ষার্থি আছেন বিদ্যালয়টিতে।

আরো জানা যায়,২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি করণের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আধীনে সারাদেশের ন্যায় হাজীগঞ্জ উপজেলায় ৫৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণের ঘোষণা হয়। কিন্তু কালচোঁ মধ্যপাড়া রেজিস্টার বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির নাম ওই তালিকায় আসেনি।
বিদ্যালয়টি নিয়ে জীবনের দুঃখ-গাঁথার গল্প তুলে ধরেন শিক্ষিকা নাছিমা বেগম বলেন, চাকুরী জীবনের শেষপ্রান্তে এসেও চাই বিদ্যালয়টি সরকারী করণ করা হোক। এই স্বপ্ন মৃত্যু পর্যন্ত দেখে যাবো।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে সাইকেলের উপর নির্ভর করে প্রতিনিয়ত সরকারী করণের স্বপ্ন দেখতে দেখতে স্কুলে আসেন। ২০১৩ সালে উপজেলার ৫৩টি বিদ্যালয় সরকারি ঘোষণায় নিজের বিদ্যালয়ের নাম না থাকায় মর্মাহত হয়ে পড়েন তিনি।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অলিউল্যাহ্ মুন্সি বলেন, বিদ্যালয়টি সরকারী করণের জন্য সম্পত্তি দিয়েছি। সরকারের দায়িত্বশীলদের কাছে বিদ্যালয়টি সরকারী করণে আমার স্বপ্ন।
জানতে চাইলে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবু সাঈদ চৌধুরী পপুলার বিডিনিউজকে বলেন, তৎকালীন সময়ে কি ত্রুটি ছিল তা আমার জানা নেই। তবে নতুন করে আরো একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার সাহাব উদ্দিন বলেন, কালচোঁ মধ্যপাড়া রেজিস্টার বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির যেসব তথ্য মন্ত্রণালয় চেয়েছে, তা পাঠানো হয়েছে। তারপরও সরকারি করণে বিদ্যালয়টির জন্য সকল ধরণের সহযোগিতা থাকবে।