হেনরি কিসিঞ্জারের কথিত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ নামক বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছরে আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মাসেতু নির্মাণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় বিজ্ঞাপন। পাকিস্তানের বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সাংবাদিক এবং উন্নয়ন পরামর্শক জাইঘাম খান পাকিস্তানের ‘দ্য নেশন’ পত্রিকায় ‘দ্য বাংলাদেশ মডেল’ শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি পাকিস্থানকে উন্নয়ন করতে হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
তারও পূর্বে এক টেলিভিশন টকশোতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘পাকিস্তানের উন্নয়ন যদি ঘটাতে চান, সুইডেনকে না দেখে বাংলাদেশের দিকে তাকান; পাকিস্তানকে বাংলাদেশের মতো বানান।’
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা জাতির পিতার জীবনাদর্শ তথা মুজিববাদকে ধারণ করে তারই স্বপ্নের সোনারবাংলা বিনির্মাণে নিয়ত কাজ করে চলেছেন। ১৯৭০ সালে মাথাপিছু গড় আয় ছিল ১৪০ ডলার। সে জন্যই হয়তো স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা বলেছিল—আগামী ১০০ বছরের মধ্যেও বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এক হাজার ডলার ছাড়াবে না। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় এই যে, মাত্র ৫০ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দুই হাজার ২২৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ডলার। এই রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার হিসেবে প্রায় সাড়ে ১১ মাস সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
বিগত এক দশক ধরে বাংলাদেশ উচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আসছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেকর্ড ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও করোনাকালীন বাস্তবতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা এশিয়ার সর্বোচ্চ।
২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.২ শতাংশ। বাংলাদেশের গড় আয়ু ৭৩ বছর, মহিলাদের ক্ষেত্রে ৭৫ বছর এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ৭১ বছর। করোনাকালীন কঠিন সময়েও সদ্যসমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর
E/N