POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

২১ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু কন্যাকে নিজ জীবন দিয়ে বাঁচিয়েছেন যিনি

পপুলার বিডিনিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২১ | সময়: ৩:০৩ অপরাহ্ণ

দক্ষিনের জেলা কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলায় জন্ম গ্রহণ মাহাবুবুর রশিদ (মাহাবুব)। এলাকার মানুষের কাছে মাহাবুব নামে পরিচিত। দুই পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন তিনি।

২০০২ সালে স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর “অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরল মাহবুব” যোগ দেন শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হিসেবে।

দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে নিজ কর্মগুনে দায়িত্বশীলতার সাথে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী ও সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মাকে বলতেন “মা দেখো, নিজের জীবন দিয়ে হলেও নেত্রীকে রক্ষা করবো”।

২০০৪ সালের ২১ শে আগস্ট উনার ছুটি ছিলো কিন্তু দায়িত্ববোধ থেকেই সেদিন দুপুরে খাবার খেতে এসে খুব তাড়াহুড়ো করে মা কে বলেছিল, “আজ আপার একটা বড় প্রোগ্রাম আছে, এক্ষুণি যেতে হবে”।

ছেলেকে স্কুলের পড়া দেখিয়ে দিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলেছিলো আসতে দেরী হবে ;

সেই ফিরে আসা আর হয় নি।

বিকেল ৫ টার দিকে জননেত্রীর ভাষণ শেষের দিকে হওয়ার পরে জনসভার উপরে শুরু হয় গ্রেনেড হামলা, গ্রেনেড বিস্ফোরনের সময় নেত্রীকে ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরী করেন কর্পোরল মাহবুব, আমির হসেন আমু, মোহাম্মদ হানিফ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মোহাম্মদ নাসিম, এবং পঙ্কজ দেবনাথ।

মাহবুব নেত্রীকে অনুরোধ করেন উনি যাতে গাড়িতে প্রবেশ করেন কিন্তু নেত্রী চিৎকার করে বলে ” না আমি যাবো না, ওরা মারে আমাকে মারুক।”

সে কথায় কান না দিয়ে মাহবুব নেত্রীকে গাড়ির মধ্যে যখন নিরাপদে প্রবেশ করাচ্ছিলো ঠিক তখনই একটা বুলেট মাহবুবের মাথার পেছন দিকে প্রবেশ করে মুখ দিয়ে বের হয় আর একই সময়ে আরো গুলি তার বুকে বিদ্ধ হয়।

নেত্রীকে বুলেটপ্রুফ মার্সিডিস গাড়ীর ভিতরে ঠেলে দরজা লাগিয়ে দিয়েই লুটিয়ে পড়েন রাজপথে।

উন্নত চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও বাচানো যায় নি এই বীরকে যিনি নিজের প্রাণের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে বাচিয়ে দেয়ার মাধ্যম হয়েছিলেন ; সেদিনই মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

গ্রেনেড হামলার কিছুদিন পূর্বে নেত্রী একটা ঘড়ি উপহার দিয়েছিলেন মাহবুবকে, যেটা কিছুদিন ব্যবহার করে স্মৃতিস্বরুপ মায়ের কাছে রেখে দিয়েছিলেন।

মা এখনো সেই ঘড়ি দেখে কান্না করেন আর গর্ব করে বলেন ” ছেলে তার কথা রেখেছে। শেখ হাসিনার জীবন বাচাতে গিয়ে নিজের জীবন দিছে কিন্তু তাও টোকাটাও পড়তে দেয় নি তার আপার গায়ে ”

এভাবেই মাহবুবরা হয়ে থাকে অনুপ্রেরণার নাম যারা পদপদবীর জন্যে নয়, শুধু মাত্র হাসু আপাকে ভালোবেসে নিজের প্রাণ দিতেও দ্বিধাবোধ করে না।

সুধাসদনে ফিরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে নেত্রী বললেন,
“যে মাহবুবকে আমি যাওয়ার আগে রাগারাগি করলাম,প্রোগ্রামে যেতে নিষেধ করলাম,সেই মাহবুবই আজ আমাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলো।”

বিশেষ দিবসে বাণী দেয়া কিংবা দাঁত কেলিয়ে সেল্ফি দেয়া অনেক অমুক তমুকরা মনে না রাখলেও বঙ্গবন্ধু কন্যা ঠিকই খবর রাখেন উনাদের। উনার দেয়া খরচেই আজো চলে সেই পরিবার।

আজকের এই দিনে এই বীর সৈনিকের প্রতি জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি।।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন