POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

হাজীগঞ্জে এসে শখে পুকুরে জাল মেরে মাছ ধরেন বঙ্গবন্ধু

পপুলার বিডিনিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২১ | সময়: ১১:০১ পূর্বাহ্ণ

হাজীগঞ্জে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জনসভা করেছেন। রাত্রীযাপন করেছেন। ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করেন। তারপর শখের মাছ ধরায় নেমে পড়েন। পুকুরে জাল মেরে মাছ ধরেন। দুপুরের খাবার খেয়ে তিনি হাজীগঞ্জ থেকে বিদায় নেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগমনে হাজীগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতার কথপোকথন নিয়ে এই প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো-

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক জীবনে চাঁদপুর জেলা ও হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগযোগ ছিল। তাঁর সুবাদে চাঁদপুর এবং হাজীগঞ্জে এসেছেন। সময় কাটিয়েছে কয়েকজন নেতার বাড়ীতে এমনকি হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের অস্থায়ী কার্যলয়ে। তাঁরই কারণে চাঁদপুর এবং হাজীগঞ্জে জাতির পিতার রাজনীতির কর্মীর সংখ্যা অনেক বেশি। এ ব্যাপার উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসন বতু এবং প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা ইকবালুজ্জামান ফারুক কথা হলে তারা বলেন,জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর পদচারনায় হাজীগঞ্জ এর মাটি ধন্য এবং সেই সুবাদে হাজীগঞ্জ শাহরাস্তির মাটি আওয়ামীলীগের দূর্গ ও ঘাঁটি। ১৯৬৬ইং তৎকালিন শেখ মুজিবুর রহমান হাজীগঞ্জ জুনাব আলী ময়দানে জনসভা করেন। তাঁর সাথে আমার যতটুকু মনে পড়ে আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ধড্ডার কৃতি সন্তান নূরুল ইসলাম,কচুয়া আবদুল আউয়াল,চাঁদপুর ৫ আসনের সাবেক এমপি আবদুর রব মিয়া, স্থানীয় আওয়ামীগ নেতা সুজত আলী মুন্সি, টোরাগড়ের খলিলুর রহমান মজুমদার, আবুল বাসার মজুমদার সহ অনেক নেতৃবৃন্দ। আমি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন বতু তখন ৫ম শ্রেণীর ছাত্র। বাড়ীর পাশে খলিল মজুমদার প্রায়ই আওয়ামীলীগ শেখ মুজিবুরের কথা নিয়ে বিভিন্ন লোকের সাথে ঝগড়া বাধিয়ে দিতেন। তাঁর স্নেহে আমি কয়েক জন বন্ধু বান্ধব সহ শেখ মুজিবুর রহমানের জনসভায় যাই, ছাত্রলীগের দেলোয়ার হোসেন দেলু ভাই আমাকে আদর করে সামনে বসার ব্যবস্থা করে দেন। মিজানুর রহমান চৌধুরী সাহেবের রসিকতামূলক বক্তব্য, বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য দৃঢ়চেতা সুতিক্ষèদৃষ্টি আওয়াজ আমাকে খুব আকৃষ্ট করে। সেদিন থেকেই বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে পেলেছি। খলিলুর রহমান মজুমদার আমাকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিভিন্ন খবরা খবর জানাতেন।

বঙ্গবন্ধু জনসভা শেষে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের দক্ষিন পাশে( বর্তমানে দক্ষিন পশ্চিম দানবাক্সের সামনে দুতালা টিনসেট কুড়েঁ ঘরে আওয়ামীলীগের অস্থায়ী কার্যলয়ে বঙ্গবন্ধু অবস্থান করতেন ) এর পর হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের নামাজ আদায় করতে। নামাজ শেষ দলীয় নেতাকর্মীদেরকে কিছু সময় দিয়ে তিনি ৫নং সদর ইউনিয়নের মাতৈন গ্রামের আলী আহম্মদ পাটওয়ারী তৎকালীন ধনাঢ্য ব্যক্তির বাসায় রাত্রি যাপন করেন। সকালে নাস্তা শেষে পুকুরে জাল মেরে মাছ ধরেন এবং দুপুরের খাবার খেয়ে হাজীগঞ্জ থেকে চলে যান। পরবর্তীতে আমি ১৯৬৯-৭১ইং হাজীগঞ্জ পাইলট হাইস্কুল ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক, মহান মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে খোরশেদ আলম বাচ্চু ডেপুটি কমান্ডারের সাথে ছদ্ধবেশে সংবাদ আদান প্রদান করি এবং লাউকরা রঘুনাথপুর যুদ্ধে অংশ গ্রহন করি।

বঙ্গবন্ধু মানুষকে কত ভালোবাসতো হাজীগঞ্জ এর লোকদের কত ভালোবাসতেন ডাঃ ফজলুল হক (পাকিস্তান ডাক্তার) অসুস্থ্য হলে হেলিকপ্টার পাঠিয়ে ওনাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান এবং চিকিৎসা শেষে হাজীগঞ্জ পাঠিয়ে দেন। খলিল মজুমদার সহ বেশ কয়েকজন প্রায়ই বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে যেতেন এবং বঙ্গবন্ধু পকেটে যাহা থাকতো মুঠ করে বাহির করে দিয়ে দিতেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করে বর্তমানে হাজীগঞ্জ উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে আছি।

আওয়ামীলীগের প্রবীন নেতা ইকবালুজ্জামান ফারুক বলেন, যুক্তফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একবার হাজীগঞ্জ এসেছিলেন এরপর আর এখানে আসার কোন সুযোগ হয়নি । তখন আমাদের জন্মই হয়নি। তাই আমি কোনো সঠিক সময় বলতে পারবোনা। পরবর্তীতে লোকমুখে যা শুনেছি তা হল তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাজিরগাঁও নিবাসী মহরম আবিদ মিয়ার বাড়ীতে একটি কর্মী সমাবেশ করেছিলেন। সেখানে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মরহুম সুজাত আলী মুন্সী, মরহুম ডাক্তার ফজলুল হক। লোকমুখে শুনেছি আবদ মিয়া পাটোয়ারী দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। বিভিন্ন প্রকার মাছের তরকারি ছিল তার মধ্যে দেশী কৈ মাছ। তার মধ্যে দেশী কৈ মাছের ঝোল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুব প্রশংসা করেছিলেন এবং বলেছিলেন কৈ মাছ আমার প্রিয় খাবার । পরবর্তী সময়ে শুনেছি আবেদ মিঁয়া মাঝে মধ্যে দেশী কৈ মাছ সংগ্রহ করে কয়েকবার বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে দিয়ে আসতেন। বঙ্গবন্ধু এমনই একজন মানুষ ছিলেন। যে একবার তার সাথে কথা বলেছে সেই বঙ্গবন্ধুকে বঙ্গবন্ধু কে পীরের মত জানতেন। পরবর্তী পর্যায়ে এসে আবিদ মিয়া পাটোয়ারী এবং মরহুম ডাক্তার ফজলুল হক রাজনীতি না করলেও বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। কিন্তু মরহুম সুজাত আলী মৃত্যুর আগ আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং একাধিক বার তিনি তৎকালীন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ পথ থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। যার কথা না বললেই নয় তিনি হলেন চাঁদপুর ৫ আসনের সাবেক এমপি এবং সর্বশ্রদ্ধেয় নেতা মরহুম আবদুর রব মিয়া। তিনি হাজীগঞ্জ রাজনীতি এক প্র্রবাদপুরুষ। তার কারণে শুধু হাজীগঞ্জ নয় তৎকালীন বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের শক্তি অবস্থানে আসে। তিনি ছিলেন বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধুর অনুসারী একনিষ্ঠ একজন মহান নেতা। মুজিব আদর্শ সর্বোচ্চ নেতাদের মধ্যে মরহুম আব্দুর রব মিয়া আজও মানুষের কাছে অতি স্মরণীয় হয়ে আছেন। (প্রতিবেদক- মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সম্পাদক ও প্রকাশক, সাপ্তাহিক আমার কন্ঠ)।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন