সারােদেশ করোনা মহামারির দুযাের্গকালীন সময়ে মানুষের পাশে অক্সিজেন নিয়ে দাঁড়িয়েছে চাঁদপুরের সাংবাদিকরাও । যার নেতৃত্বও দিচ্ছেন সাংবাদিকরা নিজেই।
জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, কচুয়া, মতলব দক্ষিণ ও শাহরাস্তিতে একঝাঁক তরুণ সাংবাদিকরা স্ব স্ব অবস্থান থেকে স্বেচ্ছাসেবকদেরকে সাথে নিয়ে দিন-রাত, ঝড়-বৃষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ছুটে যাচ্ছেন অক্সিজেন সেবা’ নিয়ে।
ফয়েজ আহমেদ ও রাফিউ হাসান হামজা শাহরাস্তি, ওমর ফারুক সায়েম মৃধা-কচুয়া, শিমুল হাসান ও এস এম ইকবাল- ফরিদগঞ্জ। মিঞা মামুন ও আরিফুল ইসলাম শান্ত- মতলব দক্ষিণ। পেশায় গণমাধ্যম কর্মী। মানুষের সুখ-দুঃখের কথাগুলো তুলে ধরে। গত কয়েক বছর স্বেচ্ছাসেবী নানা কাজের সাথে সম্পৃক্ত আছেন তাঁরা।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় কোভিড১৯ রোগীর জন্য তাঁরা অক্সিজেন পৌঁছে দিয়েছেন।
মহামারির শুরু থেকে সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক বিতরণ করছিলেন তাঁরা ও তাদের সহযোগীরা। এক পর্যায়ে এসে রোগীদের জন্য বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ শুরু করেন তারা।”যারা হাসপাতালে যেতে পারছিল না সেই সব রোগীদের সাপোর্ট দেয়া, দরিদ্র, মধ্যবিত্তদের জন্য খাদ্য সহায়তাও দেয়া শুরু করলেন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির পর দেশে হু-হু করে বেড়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম। যে সিলিন্ডার এক সময় পাঁচ হাজার টাকায় পাওয়া যেত সেটির দাম গিয়ে ঠেকেছে ১৫-১৮ হাজার টাকায়। ফলে অক্সিজেন সরবরাহ করার খরচও বেড়ে গেছে কয়েক গুন।ফলে তাঁরা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার ক্রয় করে বিনামূল্যে কোন চার্জ ছাড়া সেবা দেয়া শুরু করেন।
🔴ওমর ফারুক সায়েম। তিনি পেশায় গণমাধ্যম কর্মী হলেও গত কয়েক বছর স্বেচ্ছাসেবী নানা কাজের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। নিজের উদ্যোগে গড়ে তোলেছেন “আলোর মশাল”। অক্সিজেন সেবার ক্ষেত্রে ছুঁয়েছেন মাইলফলক অর্জন। ইতিমধ্যে প্রায় ১৭০টির মত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের দিয়েছেন অক্সিজেন সেবা। মহামারির শুরু থেকে সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক বিতরণ, খাদ্য সহায়তা, বিনামূল্যে টেলিফোনে চিকিৎসা সেবা, করোনায় আক্রান্ত ও দরিদ্র রোগীদের ঔষধ বিতরণ সহ সামাজিক নানা কাজে প্রশংসিত ওমর ফারুক ওরপে সায়েম মৃধা। এক কথায় বলা চলে, পুরো চাঁদপুরে সায়েমের রয়েছে পরিচিতি ও খ্যাতি।
🔴ফয়েজ আহমেদ। তিনি পেশায় গণমাধ্যম কর্মী হলেও গত কয়েক বছর স্বেচ্ছাসেবী নানা কাজের সাথে নিজেকে করেছেন সম্পৃক্ত। তাঁর স্ত্রী রুমানা রুমকি বহু গুণে গুণান্বিত একজন নারী। পেয়েছেন জয়ীতা সম্মাননা। সাংবাদিক ফয়েজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য রয়েছে বেশ সুনাম। লেখা লেখি করতে গিয়ে মানুষের দুঃখগুলো খুব কাছ থেকে দেখতে পেরেছে। তাই বিবেকের তাড়নায় নাম লিখান স্বেচ্ছাসেবীতে। অবশ্যই এতে তার স্ত্রী, সন্তান ও মা ভাইরাও গর্ভবোধ করেন বেশী। বন্ধুরাতো চায়ের আড্ডা থেকে সকল স্থানেই তাকে নিয়ে একটু আধটু না বললেই নয়। ফয়েজ আহমেদ “সজাগ ফাউন্ডেশন” অক্সিজেন সেবার প্রধান সমন্নয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অক্সিজেন সেবার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশাল অর্জন। ইতিমধ্যে তাঁর স্বেচ্ছাসেবকরা আন্তরিকতার সাথে দিনে রাতে ২৪ ঘন্টায় শিফট আকারে দায়িত্ব পালন করছেন অক্সিজেন সেবায়। মহামারির শুরু থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক বিতরণ ও খাদ্য সহায়তাও দিচ্ছেন এই গণমাধ্যম কর্মী।
🔴রাফিউ হাসান হামজা। কাজ করেন অনলাইন ও ফ্রিন্ট মিডিয়ায়। ভালোকাজে থাকেন সব সময় এগিয়ে। করোনা মহামারীর প্রথম থেকে স্বেচ্ছায় নিজ উদ্যোগে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অসহায়কে খাদ্য সহায়তা, দুই ঈদে নতুন পোশাক, দরিদ্রকে সরকারি- বেসরকারি সহযোগীতা পেতে তার নিরলস প্রচেষ্টার কথা আপনারা অনেকেই জানেন। তা বলার অবকাশ নেই। এছাড়া যাদের ঘর নেই তাদের সরকারি বা বেসরকারি অনুদানে ঘর পেতে সর্বোচ্চ চেস্টা ও সফলতার গল্পও আমরা দেখি ফেসবুকের কল্যাণে। সাম্প্রতিক করোনা মহামারীর এই দুর্যোগে সেভ দ্য ফিউচার ফাউন্ডেশন শাহরাস্তি উপজেলা শাখার দায়িত্ব পান সাধারন সম্পাদকের। যখন করোনায় দেখা দেয় অক্সিজেন সংকট এবং নিজ উপজেলায় অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার চিত্র। তখনি নেমে অক্সিজেন সেবায়। পাশাপাশি করোনায় মৃতদেহ দাফন কাজেও নিজেকে আবদ্ধ করেন।
🔴শিমুল হাছান ও এস এম ইকবাল। কাজ করেন স্থানীয়, জাতীয় প্রিন্ট ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে। ফরিদগঞ্জে তাদের দু’জনকে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ “মানিক জোড়” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মিল মহব্বত দেখে অনেকেই হিংসেও করে বটে। সাম্প্রতিক তারা দায়িত্ব পান সামাজিক সংগঠন সেভ দ্য ফিউচার ফাউন্ডেশন ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের। দায়িত্ব পাওয়ার পর বসে না থেকে সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিবেকের তাড়নায় নেমে পড়েন নিজ উপজেলার জনগোষ্ঠীকে অক্সিজেন সেবার আওতায়। প্রথম দিন একটি সিলিন্ডার দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পরদিন থেকে যুক্ত হতে থাকে একাধিক সিলিন্ডার। একে একে ফরিদগঞ্জের বিত্তবানরা তাদের পাশে দাঁড়ায়। সবচেয়ে বেশী ভুমিকা রাখে ফরিদগঞ্জের সাংবাদিক নেতারা। তাঁরা এক প্রকার মানব ঢাল হিসেবে তাদের ছায়া দিয়ে এই যুদ্ধকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়। যা ফরিদগঞ্জের ইতিহাসে সোনালী অক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে।
🔴মতলব দক্ষিণের নারায়ণপুর থেকে সাংবাদিক মিঞা মামুন বিশাল পরিশরে দিচ্ছেন অক্সিজেন সেবা। মিঞা মামুন অনেকটাই শখে করেন সাংবাদিকতা। তিনিও প্রচার বিমুখ। নিরবে নিভৃতে অসহায় মানুষের সুখে দুঃখে নিজের সর্বোচ্চ সাধ্যমতো আর্থিক মানষিকভাবে সহযোগীতা চালিয়ে যাচ্ছেন। কখনো কখনো প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ার দিয়ে তৃপ্তির হাসি, আবার কখনো সহযোগীতা না করতে পেরে নিরবে কেঁদেছেন। এই মানুষটাকে যাঁরা কাছ থেকে দেখেছেন একমাত্র তারাই বুঝবেন। করোনা এই মহামারীতে নিজের সম্পৃক্ততার আকাঙ্ক্ষা জানালেন আমাকে। বলেছি দিনরাত যখন প্রয়োজন মনে করবেন আমাকে জানাবেন। তিনি নারায়ণপুর একদল স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে গঠন করেন অক্সিজেন সেবা। যখন রিফিল সমস্যা প্রকট, তখন অন্যের সহযোগীতার আশায় না থেকে নিজ উদ্যোগে তার সমাধান করেন। একজন ব্যবসায়ীদের হয়েও নিজের পরিবারের সুখ, নিজের আরাম আয়েশ ভুলে রাত দিন আন্তরিকতার সাথে অক্সিজেন সেবা দিচ্ছেন নিজ উপজেলার মানুষগুলোকে।
🔴নতুন করে যুক্ত হয়েছেন সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম শান্ত। সোশ্যাল এইডার ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন সেডোর সহযোগীতায় তিনিও সেখানে অক্সিজেন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এমন উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে পুরো চাঁদপুরে।
আমি মনে করি “মানব প্রেমে অতীতের ন্যায় আমার এই সহযোদ্ধা, বন্ধু ও ভাইরা সবসময় জেগে ওঠবে, আঁধার কেটে আলো আসবেই। করোনামুক্ত যে নতুন ভোরের স্বপ্ব আমরা দেখি সেই ভোর বেশি দূরে নয়। অন্ধকারের অমানিশা ভেদ করে নতুন ভোরের মাধ্যমে সুখের সোনালি সূর্য আবার ফিরে আসবে। এই অন্ধকার সময়ে আলোর স্ফুলিঙ্গ হয়ে সকল সংকট সংশয়ে মানুষের পাশে থাকবে ভালোবাসার ‘সাংবাদিক’ অক্সিজেন যোদ্ধারা”
® সাইফুল ইসলাম সিফাত
সম্পাদক : প্রিয় চাঁদপুর
সাপ্তাহিক সকলের কন্ঠ।