হাজীগঞ্জ উপজেলার গর্ন্ধব্যপুর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে আবারও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ওই গ্রামে সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে ভবন নির্মাণে আরো একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে চাঁদপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
আদালতের নোটিশে দেখা গেছে, মালিগাঁও পূর্ব পাড়া হাজী বাড়ির আমির হোসেনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে একইবাড়ীর মৃত সেকান্তর আলীর পুত্র জাকির হোসেন ও নূরজাহান বেগম এবং পুষ্প বেগমকে বিবাদী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ভবন নির্মাণের সম্পত্তির উপর অস্থায়ী স্থিতাবস্থায় সহ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আদেশ প্রেরণ করেন।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বিষয়টি সুরাহের জন্য উভয়পক্ষকে নোটিশ করেন এবং ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।
সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মালিগাঁও পূর্ব পাড়া হাজী বাড়ি আনোয়ার হোসেন ও আমির হোসেন তার বাড়ীর সিদ্ধান্তক্রমে সম্পত্তি দখলে যেতে চায়। কিন্তু মৃত সেকান্তর আলীর পুত্র জাকির হোসেন ও তার পরিবার জোরপূর্বক ভাবে বাড়ির ও এলাকার সালীশিগণের সিদ্ধান্ত অমান্য করে মনগড়াভাবে স্বার্থের জন্য ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে। প্রতিনিয়ত জাকির হোসেন মকিমাবাদ থেকে ভাড়াটিয়া জনবল নিয়ে পেশী শক্তি দেখিয়ে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে আমির হোসেন বলেন, বাড়ির সবাই ঐক্য হয়ে সুশৃংখলভাবে পূর্ব-পশ্চিমে দুটি সারিতে তাদের বসত ঘর নির্মাণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বাড়ির সকল পরিবার বাড়ির সুশৃঙ্খলতার সাথে সেভাবে বসতঘর নির্মাণ করে। কিন্তু জাকির হোসেন তাদের বসতঘর অন্যত্র না সরিয়ে বরং আরো একটি বিল্ডিং এর কাজ শুরু করেছে। এতে করে আমরা বাড়ির সবার সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্তমতে বাড়ীর সামনের সারিতে আমার ঘর আনতে পারছি না। আমাদেরকে আড়ালে রাখার চেষ্টা করছে জাকির হোসেন গংরা।
জানতে চাইলে ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, এলাকার একটি সালিশীনামায় অনাপত্তিনামা রয়েছে। একাধিক বার সালিশি বৈঠক হলেও তারা কোন সিদ্ধান্তকে মানছে না। আইনের তোয়াক্কা না করে মনগড়াভাবে বিল্ডিং নির্মাণ করা শুরু করে। আমি একজন প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তারা জোর জবরদস্ত ভাবে তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে। আদালতের মাধ্যমে আমি বিষয়টি সুরাহার আবেদন করেছি। বিজ্ঞ আদালত ভবন নির্মাণে দুইবার নিষেধাজ্ঞা প্রেরণ করেন।
এদিকে জানতে চাইলে জাকির হোসেন পপুলার বিডিনিউজকে বলেন, আদালতের নিষেধাঙ্গা নেই। একই বিষয়ে দুই বার নিষেধাঙ্গা হয় কিভাবে। প্রথমবার আদালত ওই নিষেধাঙ্গা প্রত্যাহার করে দিয়েছে। আমরা এই ভিটা ও সম্পত্তি ছাড়বো না।