ফরিদগঞ্জ উপজেলায় এক কোটি ১৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যায়ে একটি সড়ক নির্মাণে নেই নিয়মের বালাই। স্বার্থলোভী ও প্রভাবশালীরা শুরুতে সড়কের রোড আইডির তোয়াক্কা না করে তিন কিলো মিটার অদূরে রাস্তার কাজ করে। উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের যোগশাজশে বিশেষ চুক্তিতে মূল ঠিকাদার থেকে অন্য ঠিকাদার কাজটি করছে।
সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসারা বাজার-টু-তেলিশাইর ঈদগাঁ সড়কের আইডি-৪১৩৪৫৪০৫৫। অথচ এই সড়ক থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে দীঘিরপাড়-টু-দিঘদাইর নামক সড়কটি নির্মাণ কাজ চলছে। এতে সরকারের প্রায় সোয়া কোটি টাকার বিফলে যাচ্ছে ।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে জানা গেছে, সড়কটি ১৪৫৫মিটার প্রাক্কলিত মূল্য এক কোটি ১৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের নাম আইআর আইডিপি-২ । কাজটি পায় ঝর্ণা এন্টার প্রাইজ।
ঠিকাদার মোঃ হাসান আলী বলেন, কাজটির শুরুতে রাস্তা পরিবর্তন করায় আমি অপারগতা জানাই। তারপর জোরপূর্বক একটি স্টাম্পের মাধ্যমে কাজটি অন্য ঠিকাদার নেয়। রাস্তাটি প্রসস্থতা ১০ফুট করার কথা। এখন ওই ভুল সড়কেটি ৮ ফুট করা হয়। এতে প্রায় ২২/২৩ লাখ টাকা ভাগাভাগি হয় বলেও দাবী করেন এই ঠিকাদার।
এলাকাবাসী দাবী, নির্মাণাধীন রাস্তায় ব্যাপক অনিয়ম। রাস্তার এএস এর মধ্যে ১৯ইঞ্চি (বালু ও কংক্রিট মিক্স) দেওয়ার শর্ত থাকলেও দেওয়া হয়েছে মাত্র ২-৩ ইঞ্চি । মেকাডম ৬ ইঞ্চি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও দেওয়া হয়েছে ২-৩ ইঞ্চি। তাছাড়া গাইড ওয়ালের বেইচে সিসি ঢালাই দেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ বাজে ইটা দিয়ে কনা করে রাস্তায় ব্যবহার করা হয়েছে। বালি ও কনার মিশ্রণে পরিমাণ রক্ষা করা হয়নি।
চুক্তিবদ্ধ বেআইনী ঠিকাদার মোঃ মাহাবুব মোশের্দ কচি জানান, কাজের ভালো হয়েছে। তবে পুরোপুরি সঠিক করা সম্ভব হয়নি। সিসি ঢালাই ও প্লাস্টার না করেও করছেন বলে জানান।
উপজেলা কারিগরি কর্মকর্তা মোঃ শাহাজান মিয়া এই সড়কের আইডি অপর সড়কে ব্যবহারের কথা স্বীকার করে তিনি জানান, আমি কাজটির সাইডে লক ডাউনের কারণে কম গিয়েছি।
জানতে চাইলে প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম বলেন, রাস্তা পরিবর্তন করা হয়নি। তবে এলাকাবাসীর অনুরোধে পুনরায় সার্ভে করে এখন রাস্তার কাজ চলছে। এখানে কোন অনিয়ম হয়নি। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত আছেন।