চাঁদপুরে পেট্টোলের আগুনে পুড়িয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের পশ্চিম সকদী গ্রামে ইকবাল মাহমুদ খোকন নামে ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ হত্যা মামসলার এজাহার ভুক্ত ৩ আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুজন কান্তি বড়–য়ার নেতৃত্বে তদন্তকার কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক সুমন চন্দ্রনার্থ সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ আধুনিক তথ্য
প্রযুক্তি ব্যবহার করে গতকাল সোমবার গভীর রাতে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৩ আসামীকে নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে চাঁদপুর নিয়ে আসে।
গ্রেফতারকৃত ৩ আসামীকে আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর পুলিশ আদালতে পাঠালে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জুন) দুপুরে গ্রেফতার ৩ আসামীকে চাঁদপুর মডেল থানায় গনমাধ্যমে সামনে উপস্থিত করে এক প্রেস ব্রেফিং প্রদান করেন,চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার
ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ। পরে আসামীদেরকে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়। আসামীরা হলেন-পশ্চিম সকদী গ্রামের খাঁ বাড়ীর এবং মামলার এক নম্বর আসামী দেলোয়ার হোসেন দেলুর ছেলে মো. মোরছালিন (২১), দেলুর স্ত্রী জোসনা বেগম (৪১) ও মৃত আমির খাঁর ছেলে মো. শহীদ উল্লাহ (৬৫)। ঘটনাটি ঘটেছে,গত গত ৩০ মে সন্ধ্যায় উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের পশ্চিম সকদী গ্রামে।
চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ জানায়, থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুজন কান্তি বড়–য়ার নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্রনার্থ ও সঙ্গীয়
ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সোমবার (২১ জুন) দিনগত রাত ২টার দিকে উল্লেখিত ৩ আসামীকে নারায়নগঞ্জ জেলাধীন ফতুল্লা থানা এলাকার দেলপাড়া নামক স্থান হতে দীর্ঘ অভিযান পরিচালনা করিয়া গ্রেফতার করেন।চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ বলেন, নিহত খোকন ও আসামীরা একই বাড়ীর বাসিন্দা। খোকনের সাথে আসামীদের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ৩০ মে সন্ধ্যায়
আসামীরা খোকনকে একা পেয়ে মারধর এবং ধারালো অস্ত্রের দ্বারা জখম করেন। এ সময় অন্য আসামীরা খোকনকে ধরে রাখলে অপরাপর আসামীরা খোকনের মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য এক নম্বর আসামী দেলোয়ার হোসেন দেলু পূর্ব হতে রাস্তার পাশে এনে রাখা পেট্রোল এর বোতল নিয়ে ভিকটিমের গায়ের মধ্যে পেট্রোল ঢেলে দিলে গ্রেফতার হওয়া আসামী মোরছালিন দিয়াশলাই দিয়ে খোকনের গায়ে আগুন দেয়। ভিকটিম আগুনে ছট ফট করতে থাকলে তারা খোকনের দোকানের সার্টার লাগিয়ে তালা বদ্ধ করে রাখে। খোকনের চিৎকার আশপাশের লোকজন এসে দোকানের ঝাপ খুলে তাকে উদ্ধার করে।
তিনি আরো বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় খোকনকে প্রথম চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার অবস্থা
আশঙ্কাজনক দেখে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করে। স্বজনরা তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল হাসিপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক
সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭ জুন সকালে ইকবাল মাহমুদ খোকন মৃত্যু বরণ করেন। এই ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মঞ্জুর বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন।
H/N