হাজীগঞ্জ উপজেলায় নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী সম্প্রতি ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। বেশিরভাগ মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্যের সন্ধান পেয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলার স্যানিটারী ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা।
যে ৬ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার মধ্যে বেশিরভাগই বিভিন্ন রং ও কেমিক্যালে বাহারী জন্মদিনের বা বিবাহ বার্ষিকী বা কোন অনুষ্ঠানের কেক তৈরি করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ এবং নিম্নমানের কাপড় ধোয়ার নীল রং, সেই রং মিশিয়ে তৈরি করা হয় এসব খাদ্য সামগ্রী।
রোববার হাজীগঞ্জ বাজারের ডিগ্রী কলেজ রোডস্থ একটি কেক উৎপাদনকারী বেকারিতে মিলল এমন সত্যতা। অনুমোদিত বিহীন রং দিয়ে কেক তৈরি করা হচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো রঙের বোতল গুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। প্রায় চার মাস আগের মেয়াদোত্তীর্ণ সেই রং দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নামীদামী কেক ও রুটি।
চলতি মাসে বিশুদ্ধ খাদ্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চাঁদপুর চীফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়মিত মামলা দায়ের করেন নবাগত সেনেটারী ইন্সপেক্টর সামছুল ইসলাম রমিজ।
এই কর্মকর্তার কাছ থেকে নেয়া তথ্যনুযায়ী, হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা বাজারের আলমগীর হোসেন এর মুদি দোকান, আবু সায়েদ এর এসএ কালেকশন এবং রায়চোঁ বাজারের হানিফ মিয়ার মীর বেকারী, এছাড়া চেংগাতলী বাজারের দুলাল মিয়ার মুদি দোকানে বিভিন্ন রংয়ের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য দ্রব্য প্রমাণ মিলেছে।
হাজিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের রোডস্থ কেক উৎপাদনকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ফারুক হোসেন পপুলার বিডিনিউজকে জানান, করোনাকালীন ও রমজানের সময় তাদের উৎপাদনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রং গুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়।
চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হাজিগঞ্জ উপজেলার ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে হাজীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কথা বলেন স্যানিটারী ইন্সপেক্টর সামছুল ইসলাম রমিজ। তিনি বলেন, ধারাবাহিকভাবে হাজীগঞ্জ বাজারে বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভেজাল রোধে নিয়মিত পরিদর্শন করা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।