অবৈধ খাল দখলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হউন। শহর রক্ষা করুন।
আমি কয়েকবার খাল দখলের বিরুদ্ধে লিখেছিলাম। যারা জলাশয় দখল করে বাড়ি নির্মান করে, তারা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে অনেক প্রভাবশালী। আজকে আমার শহরের জেলা পরিষদের একটি খাল দখল উচ্ছেদ করেন হাজীগন্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ জনাব জাহিদুল আজহার আলম। তিনি পৌর মেয়রের সহায়তায় ভুমিদস্যুদের থেকে উদ্ধার করেন খালটি। এতে আশেপাশের জনগনের মাঝে আনন্দের বন্যা নেমে আসে। উপস্থিত জনতার উল্লাস দেখে মনে হলো ভুমিদস্যুদের অত্যাচারে মানুষ অতীষ্ঠ। এভাবে যদি শহরের সকল খাল ও জলাশয় দখলমুক্ত করা হয় তাহলে শহরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কোন ড্রেন নির্মান করা লাগবে না। আমার এলাকার পৌর মেয়র আ স ম মাহবুবুল আলম লিপন ভাই কোন ভুমিদস্যু গ্রুপের সাথে যুক্ত না থাকায় এ খালের কিছু অংশ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
আমি খাল দখলের বিরুদ্ধে নৌকাবাজার নামে একটি লেখা পত্রিকায় ছাপা হলে তা এলাকায় আলোচনায় ঝড় তোলে। তখন আমার এলাকার বাহিরের অনেকে মন্তব্য করেন, এটা সারা বাংলাদেশের মফস্বল এলাকার চিত্র । পুরো বাংলাদেশটা ভুমিদস্যুদের দখলে। প্রতি উপজেলায় নামকরা ভুমিদস্যুদের থেকে একজনেরও বিচার করা যেত তাহলে পুরো বাংলাদেশে শান্তি বিরাজ করবে , এটা আমার বিশ্বাস। কারন ভূমির মামলার রায় কখনই হয় না। ভূমির একটি সাধারন মামলার রায় হতে ৩০-৩৫ বছর সময় লাগে।
আমার নৌকাবাজার লেখাটি অনেকে শেয়ার করেন। কেউ ভাল মনে করে শেয়ার করেন। আবার কেউ ভূমিদস্যুদের নজরে আনার জন্য শেয়ার করেন। তখন সবাই আমাকে সাবধানে চলাচল করার জন্য অনুরোধ করেন। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা জনাব মাহবুবুল আলম চুন্নু কাকার “একটি খালের আত্মকাহিনি” লেখাটি দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশ করার পর উনি চুপ হয়ে যাওয়ারও একটি কারন আছে। ওনার মত একজন মুক্তিযাদ্ধাও প্রতিবাদের ভাষা ব্যবহার করতে পারেনি। কারন পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে জয় যতটা সহজ, এদেশের ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে জয় তার চেয়ে শতগুন কঠিন।
একটা শহরের অধিবাসীদের চাহিদার মধ্যে অন্যতম হলো নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং পানি অপসারন ( ড্রেনের মাধ্যমে ) । সরকারি খাল দখলমুক্ত করলে শহরে ড্রেন নির্মান করে হাজার কোটি টাকা অপচয় করা লাগবে না। ড্রেনের প্রকল্পগুলোর টাকা বিদেশী সাহায্যের উপর নির্ভর করে। এই টাকার সুদ প্রতি বছর বাজেটের সর্বোচ্চ ব্যয়। আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের বংশধরেরা তা পরিশোধ করতেই হবে। আমরা নিজের পরিবারে কি কখনও কোন দায় পরবর্তী বংশধর বা ছেলে-মেয়েদের জন্য রেখে যাই? যাই না। তাহলে পুরো গ্রাম বা পৌরসভা বা দেশকে নিজের পরিবার মনে করা উচিত। তাহলে আমরা কি পারব আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের বংশধরদের উপর একটি সুদের বোঝা দিতে! আসলতো বাকী আছেই।
৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। বৃষ্টির পর তার বাসায় পানি উঠে। সে পাম্প বসিয়ে তিন দিন সেচ করার পর বাসা পানিমুক্ত করে বসবাসের উপযোগি করেন। তার এ অবস্থার কারন একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ভূমিদস্যুরা যখন দখল করতে থাকেন তখন আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কোরান হাদিস , গীতা, বাইবেল ভুলে ভূমি দখলের আনন্দে মেতে উঠে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে প্রশাসন বা আদালত কেউতো কথা বলবে না এমনকি আমিও কিছু লিখব না। কারন আমি মরলে আমার মৃতদেহের নামাজের জানাজা ও কবর দিবে এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের লোকেরা।
আজকে আমার এলাকায় ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর প্যানেল মেয়র জনাব জাহিদুল আজহার যে সাহসিকতা দেখালেন তা কি ধরে রাখতে পারবেন? যেকোন ভাবেই তার উপর বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ করে তাকে দমানো হবে। যদি তাতেও দমাতে না পারে তাহলে তার উপর বিভিন্ন অপবাদ দিতে থাকবে। তাতেও দমাতে না পারলে তার উপর বিভিন্ন মহল দিয়ে বিভিন্নভাবে অপদস্ত করার চেষ্টা করবে।কাউন্সিলর সাহেবের এই ভাল উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি খাল তার অস্তিত্ব ফিরে পাবে ।
একটি শহরের জলাশয় পরিস্থিতি বর্ননা করলাম। এটা সারা দেশের চিত্র। যদি প্রতিটি পৌরসভায় জলাশয় ও খাল অবৈধ দখলদারদের নিকট মুক্ত করা যায় তাহলে কোন পৌরসভায় ড্রেনের জন্য হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা লাগবে না। যেহেতু এ বিষয়টি রাষ্ট্রর সর্বোচ্চ চিন্তা ভাবনার বিষয়, তাই বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিরা চিন্তা করবেন।
এই ঘটনা কাল্পনিক। যদি কারো সাথে মিলে যায় তাহলে আমি তার জন্য দু:খ প্রকাশ করছি।