হাজীগঞ্জ উপজেলার কালোচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নে স্ত্রীকে নিতে এসে স্বামী এখন হাসপাতালে।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কালোচোঁ ইউনিয়নের মাড়ামুড়া গ্রামের মিয়াজী বাড়ীতে ঘটনাটি ঘটে।
৩নং কালোচোঁ ইউনিয়নের মাড়কী গ্রামের মো: হানিফ মিয়াজী (৫১)। তিনি ঢাকায় একটি পলিথিন কারখানায় চাকরী করতেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৩৫) কে নিতে শশুর বাড়ীতে যায় তখন স্বামী স্ত্রীর মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
হানিফ মিয়াজী বলেন, আমার স্ত্রী রোকেয়া আমার অজান্তে ২০১৭সালের অক্টোবরের দিকে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে৷ তাদের কথপোকথনের রেকর্ড আমি শুনি। এ বিষয়টি নিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমার শশুর বাড়ির সবাইকে বিষয়টি জানানোর পর সম্পূর্ণ ভাবে তারা আমাকে দোষারোপ করে, পরে আমাদের দু’জনের সাথে সমঝোতা করে দেয়। তারপর আমি বাসা ছেড়ে ভাড়া বাসায় চলে যাই। কিন্তু তারপর আমার স্ত্রী তার পরকীয়া প্রেমিক ধড্ডা খালপাড়ার ফার্মাসিস্ট জয়নালের সাথে প্রেমালাপনে নিজেকে ব্যাস্ত রাখেন।
তার পরকীয়া প্রেমের প্রতিবাদ করলে আমার সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। এই বিষয়টি নিয়ে আরো দু’বার সমঝোতা হয়। কয়েকদিন আগে আমার স্ত্রী তার বাপের বাড়িতে চলে আসে আর বাড়িতে আসতে নারাজ। গত শুক্রবার তাকে আনতে গেলে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্হানীয় মসজিদের ইমাম বিষয়টি নিয়ে আবারো সমঝোতা করে দেয়। পরে আনুমানিক রাত এগারোটায় হঠাৎ করেই আমার স্ত্রী রোকেয়া কিছু একটা দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করল। তাৎক্ষণিক সেখানে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফেরার পর দেখি আমার হাত রক্তাক্ত এবং গলায় লুঙ্গি পেছানো।
পরে স্হানীয় দোকানদার সাদ্দামকে কল দিয়ে বিষয়টি জানালে আমার ভাতিজা ইলিয়াসের সহযোগিতা আলীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে রোকেয়া বেগম বলেন, তার স্বামী হানিফ মিয়াজী ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে সে মারধর করে এবং অন্য লোকদের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে আমাকে দেয় আমি যেনো পরকীয়ায় লিপ্ত হই। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমার ছেলে সন্তান না হওয়ায় মুলত এই সকল বিষয় নিয়ে ঝামেলা। এছাড়াও আমি কয়েকদিন কথা বলেছি ওনার সামনে জয়নালের সাথে। আর উনি নিজে নিজেকে রক্তাক্ত করেছে। এবং আহত অবস্থায় পড়ে থাকতেও দেখিনি। তবে শুনেছি আমাদের বাড়ীর লোকজন ওনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছে।
ফার্মাসিস্ট জয়নাল বলেন, আমি একজন গ্রাম্য ডাক্তার মানুষের সেবা করাই আমার মুল লক্ষ্য। আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এসবের কোন কিছুর সাথেই আমি জড়িত নই।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, হানিফ মিয়াজীর হাত ব্লেড দিয়ে কাটা হয়।