বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত শ্লোগনকে সামনে রেখে পরীক্ষামুলক অনলাইন নিউজ পোর্টাল পপুলার বিডিনিউজ ডটকমে গত ১৮ মে প্রতিবেদন প্রকাশের পর হুইল চেয়ার পেলেন দুই প্রতিবন্ধী।
দুই প্রতিবন্ধী হলেন হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সেন্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা। একজন ওই গ্রামের গাজী বাড়ীর জসিম উদ্দিনের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০)। অন্যজন একই গ্রামের আটিয়া বাড়ীর মিজানুর রহমানের মেয়ে রুপা আক্তার (২০)।
এমন মানবিক সেবায় এগিয়ে আসলেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান সোহেল।
জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান সোহেল বলেন, প্রথমে পপুলার বিডিনিউজ ডটকমে ‘একটি হুইল চেয়ার চায় রুবেল’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন দেখতে পাই। পরে পড়ে জানলাম আমার গ্রামের। তখনই আমি কমেন্ট করেছি- রুবেলকে হুইল চেয়ারটি আমি দিবো। পরে রুপা আক্তারের খবরও জানতে পারি। দুইজনকে একসাথে ঈদ উপহার হিসেবে হুইল চেয়ার প্রদান করেছি।

তিনি আরো জানান, আমি গ্রামের অসহায়দের সেবায় সবসময় নিয়োজিত। মানবিক কাজগুলো করতে পারলে ভালো লাগে।
বুধবার সকালে এ বিষয়ে রুবেলের বাবা জসিম উদ্দিন বলেন, পপুলার বিডিনিউজ পরিবারকে ধন্যবাদ। আমার ছেলেকে নিয়ে লেখালেখি করায় হুইল চেয়ার পেয়েছে।
দুই প্রতিবন্ধিকে হুইল চেয়ার দেয়ায় সেন্দ্রা গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান সোহেলের প্রতি দোয়া ও ভালোবাসা রইলো। তিনি মনে করেন এভাবে সবাই গরীব অসহায় মানুষের, পাশে দাঁড়ানো উচিত। তারা প্রতিবন্ধী। কিন্তু আজ তাদের মনে যে কি আনন্দ একমাত্র আল্লাহ পাক আলামিন ভাল জানেন।

ওই প্রতিবেদনটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
রুবেল সংসারের বড় সন্তান। ছয়মাস বয়স থেকেই অটিজমে আক্রান্ত। বয়স ৩০ পেরিয়ে গেছে। সেই ৮৮ সালের বন্যার সময় জন্ম।
তার বাড়ী চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬ নং বড়কুল ইউনিয়নের সেন্দ্রা গ্রামে। ওই গ্রামের গাজী বাড়ীর জসিম উদ্দিনের ছেলে।
বাবা দিনমজুর। রুবেলের ছোট ২ ভাই ও এক বোন আছে। বোনের বিবাহ হয়ে গেছে।
রুবেলের মা রোকেয়া বেগম। তিনি সোমবার সকালে জানান, আমার ছেলে রুবেল হাঁটতে পারে না। একটি হুইল চেয়ার হলে চলাফেরায় সুবিধা হবে।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, রুবেল বাংলাদেশের একজন ভোটার। সেই সংসদ ও ইউপি নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতা পায়।