হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫নং সদর ইউনিয়নের কাজিরগাঁও এলাকায় হাজীগঞ্জ-কচুয়া-গৌরিপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মিন্টু তালুকদার এভিনিউ’র স্বত্ত্বাধিকারি আওয়ামীলীগ নেতা মো. রেজাউল করিম মিন্টু তালুকদারকে মামলা দিয়ে হয়রানি করার দাবী ওঠেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রেজাউল করিম মিন্টু সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বিষয়টি তুলে ধরেন। ওইসময় তিনি মামলার বাদী মো. খায়রুল কবির মানিককে হয়রানি বন্ধের দাবী জানান।
ঘটনার বিবরণীতে জানা গেছে, ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারা মোতাবেক গত বছরের ২২ ডিসেম্বরের স্মারক নং ২১৩১ এর আলোকে চাঁদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং- ১০৭৪/২০২০। মামলার ভিত্তিতে হাজীগঞ্জ থানার মাধ্যমে উভয়পক্ষকে ভূমির অস্থায়ী স্থিতাবস্থা নিশ্চিত করার জন্য একটি নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশে তফসীল ভূমি ও চৌহর্দ্দী উল্লেখ করে আদালত। পরবর্তীতে হাজীগঞ্জ থানা প্রতিবেদন প্রদান করে ও ভূমির স্থিতাবস্থা নিশ্চিত রয়েছে বলে জানায়।
গত বছরের ১৩ আক্টোবর সরকারি সার্ভেয়ার (আমীন) মো. ইবরাহীম খলিলের স্বাক্ষরিত একটি চৌহর্দ্দি মোতাবেক বিএস ১০৫৫ এবং ১০৫৭ দাগের দক্ষিণ সীমানা করে খুঁটি স্থাপন করা হয়। চৌহর্দ্দিতে বাচ্চু মিয়ার পক্ষে তার ছেলে মো. খায়রুল কবির মানিক স্বাক্ষর প্রদান করেন। বর্তমানে যে সম্পত্তির দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর বাদী উল্লেখ করেছেন, সেই সম্পত্তি সম্পূর্ণ আলাদা। বাদীর সম্পত্তিজনিত পূর্বে কোন প্রকার বিরোধ ছিলো না। বর্তমানেও নাই। তবে এই হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চান ভোক্তভুগী রেজাউল করিম মিন্টু।
মো. রেজাউল করিম মিন্টু বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। ২.১০ শতাংশ ভূমি মোসাম্মৎ হালিমা বেগমের কাছ থেকে ক্রয়কৃত। সম্পত্তির সম্পূর্ণ অংশ তার নামে খারিজ-খতিয়ান করা আছে। যাহাতে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যেই সম্পত্তি তিনি দখলে আছেন সেখানে বাচ্চু মিয়া বকাউল ও তার ছেলে খায়রুল কবির মানিকের সম্পত্তির সাথে কোন সম্পর্ক নাই। এদিকে বিষয়টি নিয়ে হাজীগঞ্জ থানা একটি সাধারণ ডায়েরি রয়েছে।
তৎকালীন হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ আবদুর রশিদ স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষের জমির সীমানা নিয়ে তাদের মধ্যে একাধিক দেওয়ানী মামলা বিদ্যমান। বাদীর আনীত অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকালে বিবাদীদ্বয়ের বিরুদ্ধে বাদীর আনীত অভিযোগের স্বপক্ষে কোন সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই বাদীর আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
এই বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মুঠোফোনে কথা হয় মামলার বাদী বাচ্চু মিয়া বকাউলের ছেলে খায়রুল কবির মানিকের সাথে।
তিনি বলেন, আমার ক্রয়কৃত ৩৭ শতাংশের মধ্যে সরকারি একোয়ার বাদে ৩৫ শতাংশ ভূমি। কাউছার আহম্মেদ, এম আলী মুজিব ও মো. মেহেদী হাছানের উপস্থিতিতে একটি মাপঝোপ হয়। সেখানে আমি ও মিন্টু উপস্থিত থাকবো না বলে একটি মৌখিক স্বীকৃতি নিয়ে তার স্বাক্ষর নেয়া হয়। অথচ সেখানে মিন্টু উপস্থিত থেকে এবং তার মতো করে মাপঝোপ করে। ওই সময় মিন্টু প্রতারণা করে ১ শতাংশ বেশি দখল করে নিয়ে যায়।
হাজীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. ইবরাহীম খলিল বলেন, ঘটনা শুনেছি। প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।