চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার চাপাতলী এলাকায় ১০ বছর পূর্বে গড়ে উঠা গাউছুল আজম-১ ইটভাটায় চাঁদপুর আদালতের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ২৪ মার্চ বুধবার চাঁদপুর অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট অসীম চন্দ্র বণিক স্বাক্ষরিত একটি পত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাদীর মামলা নং ৪৭৫/২০২১(ধারা ১৪৫) এর আলোকে স্মারক নং- ১১২৭ এর নির্দেশনা মোতাবেক কচুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মহিউদ্দিন ২৮ মার্চ রবিবার দুপুরে কচুয়া থানা উপ-সহকারি কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলাম সহ সঙ্গীয় ফোর্স ইটভাটায় নিষেধাজ্ঞা(স্থিতাবস্থা) বাস্তবায়ন করে। কচুয়া থানা সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে একই দিনে আদালত সরজমিনে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রতিবেদন ১৬ জুন ২০২১ তারিখের মধ্যে প্রেরণ করতে কচুয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) কে নির্দেশ দেয়। যার স্মারক নং- ১১২৮।

মামলার বাদী কচুয়া উপজেলার চাপাতলী গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মামলার বিবাদী একই বাড়ির মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে মো. রুহুল আমিন, মো. মনির হোসেন, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. ইমান হোসেন, মো. আমান হোসেন ও মেয়ে লুৎফুন নাহার লোভী ও দুষ্ট প্রকৃতির। বাদীর স্বামী জীবত অবস্থায় তিন খন্ডে .৩৬ একর ভূমি ক্রয় করে। ক্রয়কৃত সম্পত্তি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার সাবেক ২২৬ হালে ১৩০নং চাপাতলী মৌজার সাবেক ২৫নং বি.এস. ডি.পি. ১৬৯ খারিজী ১৭৬নং খতিয়ানভুক্ত: সাবেক ৩৩০ বিএস ৬২৮ সাবেক ৩২৬ হালে ৬১২ দাগের অন্দরে .৩৬ একর ভূমি। যেখানে বর্তমান গাউছুল আজম-১ ইটভাটাটী অবস্থান করছে।
বাদী ও তার দুই কন্যা সন্তান এবং এক পুত্র সন্তানের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়া না পাওয়ায় বিবাদীগণের বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে নালিশ করে। বিবাদীগণ তাদের জবরদখলকৃত ভূমি চাঁদপুর আদালতের চলতি মামলার আওয়াতধীণ থাকার পরও বেদখল দিতে রাজি না হওয়ায় চাঁদপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভূমিতে নিষেধাজ্ঞা(স্থিতাবস্থা) জারি করে।
মামলার বিবাদী মো. মনির হোসেন বলেন, আমার ভাই মৃত আনোয়ার হোসেন জীবিত থাকা অবস্থায় গাউছুল আজম-১ ইটভাটার সম্পূর্ণ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। তিনি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে অত্র ইটভাটার অন্দরে কোন সম্পত্তি ব্যক্তিগতভাবে ক্রয় করা হয়েছে এমনটা জানা নাই বলে জানান। পাশাপাশি অত্র ইটভাটার আয় দিয়ে প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা খরচ করে আরেকটি ইটভাটা নির্মাণ করা হয়েছে। সেটি বাদী ও তার পরিবারের লোকজন দখলে রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মনির হোসেন বলেন, বর্তমানে ইটভাটাটি আমার বড় ভাই মো. রুহুল আমিনের নামে রয়েছে। তবে আমাদের পারিবারিক কোন সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা না হওয়ায় বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের পরিবারকে প্রাপ্ত সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিষয়টি সমাধানে কথাবার্তা চলছে।
মামলার বিবাদীর সাথে বিরোধের বিষয়ে ভাতিজা নাবালক কথাটি জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। তবে মামলায় উল্লেখিত সম্পত্তি সম্পর্কে বিবাদীদের পৈত্রিক সূত্রে ভাতিজা-ভাতিজিরা পাওনা রয়েছে বলে জানান।