এবার এসএসসি ও সমমানের নির্বাচনি পরীক্ষাও বাতিল করা হলো। সাধারণত নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়। অকৃতকার্যরা বাদ পড়ে।
কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে এই পরীক্ষা বাতিল করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সব শিক্ষার্থীকেই এবার ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১ এপ্রিল।
বিলম্ব ফি ছাড়া ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ফরম পূরণ করা যাবে। আর বিলম্ব ফিসহ আবেদন করা যাবে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত। ২০১৬ সাল থেকে বিগত চার বছরের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এসএম আমিরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে নির্বাচনি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করে রাখা হচ্ছে।
পাশাপাশি পরীক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছে বোর্ড। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখনই খোলা হবে প্রকাশিত সিলেবাসের ওপর তখন থেকে অন্তত ৬০ কর্মদিবস ক্লাস নেওয়ার পর পরীক্ষা নেওয়া হবে। এবারে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরীক্ষার ফরম পূরণের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিরিক্ত ফি আদায় অনেকটাই ওপেন সিক্রেট বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে পরীক্ষা শুরু হলেও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান জুন পর্যন্ত টিউশন ফি নিয়ে থাকে।
শিক্ষা বোর্ড এ ক্ষেত্রেও এবার
শিক্ষা বোর্ড এ ক্ষেত্রেও এবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যেহেতু ২০২১ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তাই ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত টিউশন ফি নেওয়া যাবে।
কোনোক্রমেই তাদের কাছ থেকে ২০২১ সালের বেতন ও সেশন চার্জ আদায় করা যাবে না। আর বিলম্ব ফি ১০০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না।
ফরম পূরণ ফি বাদে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্র ফিসহ ১৯৭০ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় ১৮৫০ টাকা নেওয়া যাবে।
এর মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের তথ্য ও সম্ভাব্য তালিকা ওয়েবসাইটে ২৮ মার্চ প্রকাশ করা হবে। সম্ভাব্য তালিকা থেকে আগামী ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিলম্ব ফি ছাড়া অনলাইনে ফরম পূরণ করতে পারবেন।
এতে বলা হয়, ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীসহ ২০২০ সালের পরীক্ষায় ফেল করা পরীক্ষার্থীদের ১ এপ্রিলের মধ্যে নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রধান বরাবর সাদা কাগজে আবেদন করতে হবে।
পরীক্ষার ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পত্রপ্রতি ১০০ টাকা, ব্যবহারিকের ফি বাবদ পত্রপ্রতি ৩০ টাকা, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের ফি বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৩৫ টাকা, মূল সনদ বাবদ শিক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা, বয়েজ স্কাউট ও গার্লস গাইড ফি বাবদ ১৫ টাকা এবং জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা অনিয়মিত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের তালিকাভুক্তি ফি ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুএ: যুগান্তর