টিকা নেয়ার পর কেন মানুষের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যাদের দেখা দেয় তাদের রোগ-প্রতিরোধী ব্যবস্থা কি বেশি শক্তিশালী? বিবিসির স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংবাদদাতা জেমস গ্যালাহার করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার পর তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন এবং এসবের ব্যাখ্যা দিয়েছেন…
টিকা নেয়ার পর আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলাম। আমি করোনাভাইরাস মহামারির খবর সংগ্রহ করে সেসব পরিবেশন করেছি, টিকা তৈরির যে প্রতিযোগিতা সেটাও আমি কভার করেছি। চীনের উহান শহরে যখন অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তখন থেকেই আমি এসব করছি।
তারপর যখন ডাক্তারখানায় গিয়ে শার্টের হাতা গুটিয়ে আমার নিজের টিকা নেয়ার সময় এলো মনে হলো এটা সত্যিই এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
কিন্তু আমি এখানে আপনাদের সঙ্গে খোলামেলাভাবে সততার সঙ্গে সবকিছু তুলে ধরবো : এই টিকা আমাকে একেবারেই কাবু করে ফেলল।
পরিষ্কার করে বলি, এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েও আমি আবার টিকা গ্রহণ করব। কোভিডে আক্রান্ত হওয়া, অথবা আরো এক বছরের বিধি-নিষেধের মধ্যে পড়ে যাওয়া, কিম্বা দুর্ঘটনাবশত প্রিয়জনের দেহে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দেয়ার উচ্চ ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে আমি বরং টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মেনে নিতে রাজি।
অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার প্রথম ডোজটি আমি নিয়ে নিয়েছি সকাল সাড়ে ন’টায়। সেদিন সন্ধ্যায় খুব দ্রুত আমার অবস্থার অবনতি হতে থাকে, পরের তিন দিন আমি বিছানা থেকে একরকম উঠতেই পারিনি।
সবচেয়ে খারাপ যেটা হলো তা হচ্ছে, প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও সেইসাথে বমি। শরীরে ব্যথা হচ্ছিল, ঠাণ্ডা লাগছিল, আমার নিজেকে মারাত্মক ক্লান্ত মনে হচ্ছিল।
বিছানায় অসুস্থ হয়ে পড়ে থেকে আমি যখন কাতরাচ্ছিলাম তখন তো আমি বলতেই পারি ‘আমার কেন এই অবস্থা হলো?’
কিন্তু আমি সুস্থ হয়ে উঠতে উঠতে আমি ভাবছিলাম কেন কিছু কিছু মানুষের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অন্যদের তুলনায় খুব খারাপ হয়, তার মানে কি এই যে তাদের তুলনায় আমার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি শক্তিশালী।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কোত্থেকে আসে, কেন হয়?
কোভিড টিকা শরীরের সাথে একটি কৌশলের আশ্রয় নেয়। টিকা নেয়ার পর শরীর মনে করে যে সে করোনাভাইরাসের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এই টিকা তখন সংক্রমণের সাথে লড়াই করার জন্য আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধী স্বাভাবিক ব্যবস্থাকে টোকা মেরে জাগিয়ে তোলে।
প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় বাহুতে যেখানে টিকাটি দেয়া হয়- ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়- কারণ তখন রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
তখন দেহের বাকি অংশে এর প্রভাব পড়তে পারে এবং দেখা দিতে পারে ফ্লুর মতো উপসর্গ যেমন জ্বর, ঠাণ্ডা লাগা ও বমি বমি ভাব।
‘জ্বালা যন্ত্রণাময় সাড়া দেয়ার কারণে এরকম হয়,’ একথা আমাকে বললেন এলেনর রাইলি, যিনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোগ প্রতিরোধীব্যবস্থা ও সংক্রামক রোগ বিভাগের শিক্ষক।
এটা কাজ করে রাসায়নিক ফায়ার এলার্মের মতো। টিকা দেয়ার পর শরীরের ভেতরে কিছু রাসায়নিক প্রবাহিত হতে শুরু করে যা দেহকে সতর্ক করে দেয় বলে যে কোথাও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
প্রফেসর রাইলি বলেন : ‘এটা রোগ-প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করে তোলে এবং আপনার বাহুর চারপাশে যেসব টিস্যু আছে সেগুলোতে রোগ-প্রতিরোধী কিছু সেল প্রেরণ করে। সেখানে আসলে কী হচ্ছে সেটা খুঁজে বের করতেই এসব সেল পাঠানো হয়।’
এসব রাসায়নিকের কারণে আমরা অল্প কিছু সময়ের জন্য অসুস্থ বোধ করতে পারি।