POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

শিশুদের শাসনে ইসলামের নীতিমালাগুলো হলো:-

ডেস্ক নিউজ | প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২১ | সময়: ৬:০৬ অপরাহ্ণ

অনেক মা-বাবা, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকা ছোট ছোট শিশুদের শাসনের নামে বেদম প্রহার করে থাকেন বা শারীরিক নির্যাতন করে থাকেন। প্রশ্ন হলো, পড়াশোনা না করার অজুহাতে অথবা পড়াশোনার প্রতি অমনোযোগী হওয়ার কারণে অথবা দুষ্টামি করার কারণে শিশুদের প্রহার করার বিধান কি?

শুরুতেই যে কথাটি বলা দরকার তা হলো- একজন মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত ইসলামী শরিয়ার নিয়মানুযায়ী বালেগ না হয় বা নাবালেগ থাকে, ততক্ষণ সে শরিয়তের দৃষ্টিতে শিশু হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। আর শিশুর প্রতি মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালার কোনো আদেশ-নিষেধ কার্যকর নয় বা বর্তায় না। শিশুর ওপর কোনো আবশ্যিক বিধিবিধান অথবা শাস্তিমূলক বা কোনো দণ্ডবিধি প্রযোজ্য হয় না। এ ব্যাপারে সারা বিশ্বের সব ওলামায়ে কেরাম একমত। যেখানে নাবালেগ সৃষ্টির প্রতি মহান সৃষ্টিকর্তার এমন দৃষ্টিভঙ্গি সেখানে কোনো মা-বাবা, অভিভাবক, শিক্ষক বা অন্য যে কারো কোনো শিশুর প্রতি কোনোরকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার নেই।

এ কারণে শিশুদের জন্য ইসলাম শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তে তাদিব বা শৃঙ্খলা শেখানোর কথা বলে, শিষ্টাচার শেখানোর কথা বলে এবং প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা বলে। শিশুদের বয়স অনুপাতে ইসলামী শরিয়ার শাসন নীতিমালা অবলম্বনে তাদের শাসন করার নাম তাদিব বা আদব শিক্ষা দেয়া। সুতরাং শিশুদের তাদিব বা শৃঙ্খলা প্রশিক্ষণ দেয়ার হুকুম থাকলেও শিশুর জন্য শাস্তিমূলক কোনোরকম ব্যবস্থা গ্রহণ ইসলামে জায়েজ নেই।

বিশেষ করে একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সাথে কেমন দৃষ্টিভঙ্গি বা আচরণ হওয়া উচিত সে বিষয়ে আমরা নির্দেশনা পাই সূরা আর-রাহমানের প্রথম আয়াতগুলোতে। এখানে আল্লাহ বলেছেন, ‘যিনি পরম দয়ালু তিনি মানবজাতিকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন।’ এখানে আল্লাহ মানবজাতির কুরআনের শিক্ষায় তিনি নিজেই শিক্ষক হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন। আর আল্লøাহ যখন শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তখন তার যে গুণটি উল্লেøখ করেছেন তা হলো- ‘আর রহমান’ যার অর্থ অনেক দয়ালু এবং পরম মায়াময়। অথচ শিক্ষার সাথে আল্লাহর গুণবাচক নাম ‘আলিম’ বা ‘আল্লাম’ (অনেক জ্ঞানী) বেশি যথার্থ হতে পারত। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা এখানে ‘আর রহমান’ তথা পরম দয়ালু উল্লেøখ করে আমাদের বার্তা দিয়েছেন যে, যারা শিক্ষক হবেন বিশেষ করে কুরআনের শিক্ষক তাদের অন্তরভরা মায়া থাকতে হবে, দয়া থাকতে হবে। যেমনটি মহান রব তার নিজের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন।

অতএব একজন কুরআনের শিক্ষক তার শিক্ষার্থীকে বেদমভাবে প্রহার করতে পারেন না বা অমানবিক আচরণ করতে পারেন না। যদি করে থাকেন তাহলে অবশ্যই তিনি কুরআনের শিক্ষক হওয়ার যোগ্য নন, বরং তিনি এক প্রকার জল্লাদ।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন