পৃথিবীর কক্ষপথে প্রথম পরিভ্রমণ করেছিল কোনো মানুষ নয়, বরঞ্চ রাশিয়ার একটি বেওয়ারিশ মাদি কুকুর। ১৯৫৭ সালের এই
দিনে সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-৯ নভোযানের মাধ্যমে মহাশূন্যে প্রথমবারের মতো লাইকা নামের একটি কুকুর প্রেরণ করে।
চারবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করার পর কুকুরটি মারা যায়। রুশ বিজ্ঞানী প্রফেসর ভিক্টর ইয়াযদভস্কির বয়স যখন ৯ বছর, তখন তার বিজ্ঞানী বাবা একবার লাইকাকে গবেষণাগার থেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। লাইকাকে নিয়ে প্রফেসর ইয়াযদভস্কি স্মৃতিচারণ করেছেন বিবিসির ওলগা স্মিরনোভার কাছে।
“খুবই শান্ত স্বভাবের কুকুর ছিল লাইকা ।আদুরে চেহারার ছিল। তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়াও সহজ ছিল। তার বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সবই খুব মুগ্ধ ছিল। তার চোখের রঙ ছিল কালো। তার চোখ যেন কথা বলতো।” ১৯৫৭ সালে প্রফেসর ভিক্টর ইয়াযদভস্কির বয়স ছিল ৯। তার বাবা ভ্লাদিমির ইয়াযদভস্কি ছিলেন একজন চিকিৎসক। সোভিয়েত মহাকাশ কর্মসূচির মেডিকেল ইউনিটের প্রধান ছিলেন তিনি। “সবাই লাইকাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। সেসময় কেই জানতো না জীবিত অবস্থায় কেই মহাকাশ থেকে ফিরতে পারবে কিনা।” সবাই ধরে নিয়েছিল ।
লাইকা আর জীবিত ফিরবে না। ফলে ফ্লাইটে তোলার আগে প্রফেসর ইয়াযদভস্কির বাবা লাইকাকে অনেক আদর যত্ন করেছিলেন। “আমার বাবা লাইকাকে আমার দাদির বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। মস্কোর কাছেই ছিল আমার দাদির বাড়ি। সেসময় আমি এবং আমার বোন লাইকার সাথে খেলেছিলাম। আমার বাবা মনে করেছিলেন, ফ্লাইটে তোলার আগে বাড়ির পরিবেশ লাইকার জন্য দরকার ছিল।”
মহাকাশে কুকুর কেন, বাঁদর কেন নয়? মহাকাশে কুকুর পাঠানোর কথা ১৯৪৮ সাল থেকেই সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা ভাবছিলেন। এবং গবেষণাগারের এই সব কুকুরগুলোর সাথে প্রফেসর ভ্লাদিমির ইয়যদভস্কির ছেলে মেয়েরা মাঝে মধ্যেই খেলাধুলো করার সুযোগ পেত। লাইকা ছিল সেই কুকুর দঙ্গলের একটি। আমেরিকান সংবাদ মাধ্যমে সেসময় লাইকাকে সাইবেরিয়ান হাস্কি
হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
কিন্তু লাইকা হাস্কি জাতের কুকুর ছিলনা। সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা তখন তাদের কাজের জন্য খুব সচেতনভাবে সাধারণ বেওয়ারিশ কুকুরকে বেছে নিয়েছিলেন । “তারা মহাকাশ গবেষণার জন্য খুব ভালো কোনো জাতের কুকুরের বদলে সাধারণ বেওয়ারিশ কুকুরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছিলেন। এসব কুকুরের কোনা ঠিকানা ছিলনা, মনিব ছিলনা। কেন তাদেরকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিলে? কারণ, রাস্তায় বেওয়ারিশ হিসাবে টি