জানা যায়, সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ আলা উদ্দিনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত পৌনে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আলা উদ্দিনকে নিজের কর্মী দাবি করেছেন মিজানুর রহমান বাদল। তিনি (আলা উদ্দিন) উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চরকালী গ্রামের মমিনুল হকের ছেলে বলে জানা গেছে। গুলিবিদ্ধ অন্যরা হলেন- মো. রাজিব, মাঈন উদ্দিন, শাহ আলম, জাকির হোসেন হৃদয়, দেলোয়ার হোসেন, সোহেল, শাহাদাত হোসেন, আরাফাত হোসেন, বেলাল হোসেন সেলিম। আহতরা হলেন- সাহাব উদ্দিন, জনি, সেলিম, ওয়াহিদ কামাল, রিপন, রফিক চৌধুরী, পিনন চৌধুরী, দিপু, সুমন, আরিয়ান শিপন, শরীফ উল্যাহ টিপু, মানিক, শরীফ, আল মাহাদি, রাজিব হোসেন রাজু, নবায়ন হোসেন, আদনান শাহ, সালা উদ্দিন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- ওসি মীর জাহিদুল হক রনি, এসআই জাকির হোসেন, নিজাম উদ্দিন, কনেস্টবল খোরশেদ আলম, আলা উদ্দিন ও আবুল কালাম।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের ওপর মেয়র আবদুল কাদের মির্জার লোকজনের হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় রূপালী চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের একাংশ (মিজানুর রহমান বাদল গ্রুপ)। সন্ধ্যা ৬টার দিকে থানার পশ্চিম পাশের সড়ক (মাকসুদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়) দিয়ে সমাবেশে হামলার চেষ্টা চালায় কাদের মির্জার সমর্থকরা। এরপরই উভয়পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। সংঘর্ষ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টার দিকে মেয়র মির্জার সমর্থকরা বসুরহাট বাজারে একটি মিছিল বের করলে বাদলের সমর্থকদের সঙ্গে আবার সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে শুরু হয় গোলাগুলি। এতে অনেকে গুলিবিদ্ধ হন। সংঘর্ষের সময় দোকানপাট ও অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জের লোহারপুল এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করেন কাদের মির্জার সমর্থকরা।
ওসি মীর জাহেদুল হক রনি জানান, প্রথমবার হামলার পর পুলিশ ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে পুলিশসহ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১২-১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলে এখন র্যাব ও পুলিশ অবস্থান করছে।