চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে লক্ষ্মীপুর কাশিমিয়া আলিম মাদ্রাসার তিনতলা ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। শুরুতে ইটের মান নিয়ে আপত্তি, আর কাজের শেষ পর্যায়ে ভবনের রং নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। প্রায় এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ভবনের কাজের মান নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের।
শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন ভবন। কিন্তু সেই ভবনের নির্মাণকাজের মান নিয়েই উঠেছে নানান প্রশ্ন।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর কাশিমিয়া আলিম মাদ্রাসায় চলছে তিনতলা ভবন নির্মাণের কাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, বালি ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে।
নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে ইট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম। তবে নির্মাণকাজের শেষ পর্যায়ে এসে ভবনের রং ও সামগ্রিক কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক হোসেন মোল্লা, অনিক হাসান মাসুম, রাকিব হাওলাদার ও মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য আরিফ চৌধুরী জানান, ভবনটি নির্মাণ কাজের শুরু থেকে নানান অনিয়মের মধ্য দিয়ে কাজ করছেন ঠিকাদার। একাধিকবার এসব বিষয় নিয়ে ঠিকাদার শাহ আলমকে জিজ্ঞেস করলে ক্ষিপ্ত হন তিনি। এখন ভবনের রং-এর মান অভিযোগ রয়েছে তাদের।
নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করে ঠিকাদার শাহ আলম বলেন, নিম্নমানের ইট সরিয়ে পরবর্তীতে এক নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জানানোর কথা বলেন তিনি। এছাড়াও সাব কন্টাকটারকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন ঠিকাদার।
এদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আচরণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একাধিকবার প্রতিষ্ঠানের অসদাচরণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তবে নির্মাণকাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক।
প্রায় এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ ভবনটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা এবং সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।