সুদানে গত কয়েক দিনে সংঘটিত ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় বহু শিশু ও বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ১৬০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। চিকিৎসাকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে চলা দেশটির গৃহযুদ্ধে সামরিক বাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’ (আরএসএফ)—উভয় পক্ষই ড্রোনের ব্যবহার বাড় দেওয়ায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটে গত রোববার সন্ধ্যায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় পশ্চিম কোরদোফান রাজ্যের আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত আল-দিবাব শহরের একটি বাজারের কাছে। বাজার শেষে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে পরিবহনকেন্দ্রে অপেক্ষারত গ্রামবাসীদের ওপর ড্রোন হামলায় এক স্থানেই ৮০ জন প্রাণ হারান এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও ৩০ জন। স্বঘোষিত প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই হামলার জন্য সুদানের সরকারি বাহিনীকে দায়ী করেছে। এছাড়া সোমবার সকালে আরএসএফের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা শহরে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন এবং রাজধানী খার্তুমে পৃথক হামলায় তিন শিশু নিহত হয়েছে। অন্যদিকে এর আগে শুক্রবার ইথিওপিয়া সীমান্তবর্তী ব্লু নাইল প্রদেশে বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর আরএসএফের ড্রোন হামলায় ৪১ জন নিহত হন।
এদিকে সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ প্রধান ‘হেমেদতি’র মধ্যে আধাসামরিক বাহিনীকে সেনাবাহিনীতে একীভূত করার বিরোধ নিয়ে ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া এই সংঘাত বর্তমানে চতুর্থ বছরে গড়িয়েছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির তথ্য মতে, এ পর্যন্ত এ যুদ্ধে অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ায় সুদান বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।