চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে পানি সরবরাহের খাল (পথ) বন্ধ হওয়ায় হাজীগঞ্জ পৌর ৭ নং ওয়ার্ডের বদরপুর উত্তর মাঠ এবং বলিয়া পশ্চিম মাঠে ৪৫/৫০ একর ফসলী জমিতে ধান চাষাবাদ ও ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং জমির মালিক ও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে সচেতনমহল,স্থানীয় কৃষকসহ এলাকাবাসী নির্মাণাধীন গ্রীডের গেইটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
সরজমিনে দেখা যায়, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১,হাজীগঞ্জ-কচুয়া-শাহরাস্তি সহ এতদ্ব অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে আরইবির আওতাধীন হাজীগঞ্জ পৌর ৭ নং ওয়ার্ড এলাকার বদরপুরে হাজীগঞ্জ-গৌরিপুর মহাসড়ক সংলগ্ন পশ্চিম পাশে নির্মাণাধীন কচুয়া গ্রীডের কাজ প্রায় সম্পন্ন ।
স্থানীয় সচেতনমহলের সাথে কথা বলে জানা যায়,যারা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে গ্রীড কোম্পানিকে জমি দিয়েছেন,চলতি বছর লক ডাউনের আগে জেলা প্রশাসক,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রেভিনিউ) মহোদয় সহ সরকারের উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীলরা জমি বিক্রেতাদের হাতে চেক তুলে দেওয়ার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে অত্র এলাকায় ধান চাষের জন্য বোয়ালজুরি খাল থেকে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা নিশ্চিত করা হবে।কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদার পানি চলাচলের বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় জমির মালিক ও কৃষকরা হতাশ হয়েছেন।
জমির মালিক ও কৃষক মোঃ বাচ্চু মিয়া,হাজী মোঃ মীর হোসেন,আব্দুল মান্নান,সাহেব আলী,মোস্তফা মিয়া,জয়নাল আবেদীন,আব্দুস ছাত্তার মোল্লা, আবুল কালাম কবিরাজ, হাজী নোয়াব আলী,ইউসুফ আলী,বাহাদুর,রেনু মিয়া,মোঃ হানিফ,খলিল,হারুনুর রশিদ,মনির হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান,আমরা এ জমিতে ফসল উৎপাদন করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করি। এখন পানির অভাবে ধান চাষাবাদ করতে পারছি না। ফসল উৎপাদনে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের ন্যায্য দাবি ধান চাষের জন্য পানি সরবরাহ ব্যবস্থা করার জন্য চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের সৃদৃষ্টি কামনা করছি।
বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ এমরান হোসেন মুন্সী বলেন, জমি অধিগ্রহণের টাকার চেক প্রদান অনুষ্ঠানে বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয় ও এডিসি (রেভিনিউ) কে অবহিত করা হয়েছে। সেই সময় অতিথিবৃন্দ জনস্বার্থে ও কৃষকদের কল্যাণে ধান চাষে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলেন।
এ বিষয়ে নির্মাণাধীন গ্রীডের ঠিকাদারের সাথে সরাসরি কথা বলতে চাইলে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
পবিস-১ এর জিএম বলেন, বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন,আবু তাহের খন্দকার,মোঃ কাইয়ুম,আব্দুল খালেক,মাঈনুদ্দিন,ইব্রাহীম সহ প্রায় দুই শতাধিক জমির মালিক ও কৃষকবৃন্দ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।