জুলাই গণহত্যার ঘটনায় ঢাকার দুটি থানায় মামলা রয়েছে পটুয়াখালী নদীবন্দরের পরিবহন পরিদর্শক তুষার কান্তি বণিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, মামলা থাকার পরও তিনি সরকারি চাকরিতে বহাল রয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিষয়ে কিছুই জানে না বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পটুয়াখালী নদীবন্দরের পরিবহন পরিদর্শক তুষার কান্তি বণিক। জুলাই গণহত্যার ঘটনায় ঢাকার রমনা ও যাত্রাবাড়ী থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, তুষার কান্তির বিরুদ্ধে থাকা এসব মামলার বিষয়ে তারা অবগত নন।
অভিযোগের বিষয়ে তুষার কান্তি বণিক দাবি করেন, তাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। সরকারের পতনের পর ৬ ও ৭ আগস্টও তিনি ঢাকায় অফিস করেছেন বলে জানান। তবে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
পটুয়াখালী নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. জাকী শাহরিয়ার জানান, তুষার কান্তির বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি তাদের জানা নেই।
এদিকে তুষার কান্তির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নৌযান, লঞ্চ, স্পিডবোট ও অনুমোদিত ট্রলারের কনজারভেন্সি চার্জ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বছরে একবার নেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে মাসে মাসে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এর বিপরীতে নিয়মিত রসিদও দেওয়া হচ্ছে না।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, লিখিত অভিযোগ বা মামলার কপি পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা বিআইডব্লিউটিএর প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক এস এম শাহেদ রেজা জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। লিখিত অভিযোগ বা মামলার কপি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজলও বিষয়টি তাদের জানা নেই বলে জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট থানা থেকে অবহিত করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
রমনা থানার ওসি মো. ইয়াছিন মিয়া ও যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মো. রাজু জানান, মামলার নথি যাচাই করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া তুষার কান্তি বণিক ঢাকা বিআইডব্লিউটিএর বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বিআইডব্লিউটিএর শ্রমিক লীগ শাখার দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।