POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

১৫১ জনের মিড-ডে মিলের খাবার পেলেও শিক্ষার্থী মাত্র ৭৫, বাকি খাবারের তথ্য গোপন প্রধান শিক্ষকের

সুমন আহমেদ | প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ | সময়: ৩:২৪ অপরাহ্ণ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুষ্টি নিশ্চিত ও ঝরে পড়া রোধে সরকার চালু করেছে ‘মিড-ডে মিল’ প্রকল্প। অথচ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ২০নং ইমামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাগজ-কলমে ১৫১ জন শিক্ষার্থীর নামে খাবার বরাদ্দ এলেও বাস্তবে স্কুলে পাওয়া গেছে মাত্র ৭৫ জন শিক্ষার্থী। বাকি ৭৬ জনের বরাদ্দকৃত সরকারি খাবারের সুনির্দিষ্ট হিসাব চেয়েও মেলেনি কোনো সদুত্তর। বরঞ্চ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে কোনো মন্তব্য না করে লিখিত দরখাস্ত দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সোহানা ইসলাম।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়টিতে ১৫১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মিড-ডে মিলের খাবার সরবরাহ করা হয়। তবে শ্রেণীভিত্তিক শিক্ষার্থী সংখ্যা ও সরেজমিনে উপস্থিতি যাচাই করে দেখা যায় করুণ চিত্র। ১ম শ্রেণীতে ১৪ জন, ২য় শ্রেণীতে ১৫ জন, ৩য় শ্রেণীতে ১৫ জন, ৪র্থ শ্রেণীতে ২৩ জন এবং ৫ম শ্রেণীতে মাত্র ৮ জন অর্থাৎ সব মিলিয়ে মোট উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র ৭৫ জনে।

​নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত খাবার বা এর পেছনের হিসাব সঠিক রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। অর্ধেকেরও বেশি খাবার প্রতিদিন কোথায় যাচ্ছে বা কীভাবে এর সমন্বয় হচ্ছে সে বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন।
​বাকি খাবারের হিসাব এবং অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহানা ইসলাম সংবাদকর্মীদের সরাসরি কোনো উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে আপনাদের কোনো উত্তর দেব না। আপনারা আমার কাছে লিখিতভাবে আবেদন করলে আমি তার লিখিত জবাব দেব।
​প্রধান শিক্ষকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও রহস্যজনক আচরণে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, সরকারি বরাদ্দের খাবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এমন অস্পষ্টতা চলে আসছে। খাদ্য বিতরণে অনিয়ম না থাকলে হিসাব দিতে কেন প্রধান শিক্ষক গড়িমসি করছেন তা নিয়ে জোর গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, তাহলে বিধি মোতাবেক অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সরকারি খাদ্য বা অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। মিড-ডে মিলের খাবারে শিক্ষার্থী সংখ্যার সাথে উপস্থিতির যে তফাৎ দেখা গেছে এবং প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়ার যে বিষয়টি উঠেছে তা আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি।

​তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তদন্তে যদি কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন