POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

এক বছরে হাসান আলীতে বড় পতন, মাতৃপীঠে সামান্য অবনতি; আল-আমিনে জিপিএ-৫ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি

গাজী মো সবুজ | প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬ | সময়: ৮:৩৮ অপরাহ্ণ

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর চাঁদপুর শহরের তিনটি সুনামধন্য বিদ্যাপীঠের ফলাফলে এক বছরের ব্যবধানে দেখা গেছে তিন ধরনের চিত্র। কোথাও সাফল্যের জায়গায় এসেছে বড় ধাক্কা, কোথাও ফলাফল মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও কমেছে জিপিএ-৫, আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই এসেছে উল্লেখযোগ্য উন্নতি।

২০২৫ ও ২০২৬ সালের ফলাফল পাশাপাশি বিশ্লেষণ করলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও আল-আমিন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজে। অন্যদিকে মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন না হলেও জিপিএ-৫-এর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।

হাসান আলীতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোতেই পতন
চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালে ২৩২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩০ জন কৃতকার্য হয়েছিল। পাসের হার ছিল ৯৯.১৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯১ জন। সে বছর অকৃতকার্য হয়েছিল মাত্র ২ জন।

তবে এক বছর পর ২০২৬ সালে একই সংখ্যক ২৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও ফলাফলে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। এবার কৃতকার্য হয়েছে ২০৮ জন, অকৃতকার্য হয়েছে ২৪ জন। পাসের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৮৯.৬৬ শতাংশে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬ জন।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার কমেছে ৯.৪৮ শতাংশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ কমেছে ৩৫ জন এবং অকৃতকার্যের সংখ্যা ২ থেকে বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ সালে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৫৪ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ২ জন।

মাতৃপীঠে সামান্য কমেছে পাসের হার, জিপিএ-৫-ও
মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফলে অবশ্য হাসান আলীর মতো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।

২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির ২৪১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩৪ জন কৃতকার্য হয়েছিল। পাসের হার ছিল ৯৭.১০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১৭ জন। অকৃতকার্য হয়েছিল ৭ জন।

২০২৬ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে হয়েছে ২২৯ জন। এবার কৃতকার্য হয়েছে ২২১ জন, অকৃতকার্য হয়েছে ৮ জন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৬.৬২ শতাংশে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৪ জন।

অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে মাত্র ০.৪৮ শতাংশ পয়েন্ট। তবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১৭ থেকে কমে ১০৪ জনে দাঁড়িয়েছে—অর্থাৎ কমেছে ১৩ জন।

এবারের জিপিএ-৫ পাওয়া ১০৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৮৭ জন এবং মানবিক বিভাগের ১৭ জন।

আল-আমিনে উল্টো চিত্র, জিপিএ-৫ বেড়েছে ১১৪ জন
তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে আল-আমিন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির ৭৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৯৯ জন কৃতকার্য হয়েছিল। পাসের হার ছিল ৮৯.৬২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১০৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছিল ৮৩ জন।

কিন্তু ২০২৬ সালে পরীক্ষার্থী বেড়ে হয়েছে ৮৩৫ জন। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৭৮৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৫১ জন। পাসের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩.৮৩ শতাংশে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে জিপিএ-৫-এ—এবার ২১৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আল-আমিনের পাসের হার বেড়েছে ৪.২১ শতাংশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০৫ থেকে বেড়ে ২১৯ জনে দাঁড়িয়েছে—বৃদ্ধি ১১৪ জনের, যা দ্বিগুণেরও বেশি। আর অকৃতকার্যের সংখ্যাও ৮৩ থেকে কমে ৫১ জনে নেমেছে।

তিন প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে ভিন্ন চিত্র-
দুই বছরের ফলাফল পাশাপাশি রাখলে চাঁদপুর শহরের এই তিন বিদ্যাপীঠের এসএসসি ফলাফলে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বেড়েছে অকৃতকার্যের সংখ্যা।

মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার প্রায় একই অবস্থানে থাকলেও জিপিএ-৫ কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে আল-আমিন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার যেমন বেড়েছে, তেমনি জিপিএ-৫-এর সংখ্যাতেও এসেছে বড় উত্থান; পাশাপাশি কমেছে অকৃতকার্যের সংখ্যাও।

ফলে ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে চাঁদপুর শহরের এই তিন সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানের চিত্র যেন একই ফ্রেমে তিন গল্প—একটিতে বড় পতন, একটিতে সামান্য পরিবর্তন আর অন্যটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর দৃশ্য।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন