গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হাজীগঞ্জ বাজারের ফুটপাথ ও ফলের দোকানে ভ্যান ভর্তি করে বিক্রি হচ্ছে হলুদ রঙের কাঁচা খেজুর। বিক্রির সময় একে ‘মিশর, দুবাই, সৌদি আরবের কাঁচা খেজুর’ বলে প্রচার করা হলেও বাস্তবে এটি আসছে ভারতের রাজস্থান থেকে। ক্রেতাদের সাথে এটি পুরোপুরি প্রতারণা বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
হালকা কষযুক্ত ও তুলনামূলক মিষ্টি এ খেজুরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকার আশপাশে। চাহিদাও কম নয়। গত কয়েক বছর ধরেই এ মৌসুমে হাজীগঞ্জে এ কাঁচা খেজুর বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।
হাজীগঞ্জ বাজারের একাধিক ফলের আড়ৎ ঘুরে জানা যায়, খেজুরগুলো মূলত ভারত থেকে আমদানি হয়। বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে ভারতের রাজস্থানের মরু অঞ্চল থেকে ফলটি আসে। হাজীগঞ্জে এটি পৌঁছায় ঢাকার আড়ৎ হয়ে। অন্য বছরের তুলনায় এবার আমদানি কিছুটা বেশি। দামও মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে থাকায় বিক্রি বেশি হচ্ছে।
পৌর হকার্স মার্কেটের মহাসড়কের পাশে এক কিশোর ভ্যানে করে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিক্রেতা বলেন, “আড়ৎ থেকে এক মন নিয়েছি, দুপুরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। যারা একবার কিনে তারা আবারও কিনতে আসে।”
শাহরাস্তির ওয়ারুক এলাকার শহীদ উদ্দিন (৪২) বলেন, “দোকানীকে ফলের নাম জিজ্ঞেস করে একটা মুখে দিলাম। হালকা কষ কিন্তু বেশ মিষ্টি। তাই এক কেজি কিনলাম। দোকানী বললো এটি মিশরের কাঁচা খেজুর। এর আগে এমন কাঁচা খেজুর কখনো দেখিওনি, খাইওনি।”
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভারতের রাজস্থানের এ খেজুরই ক্রেতা আকৃষ্ট করতে কেউ বলছে ‘মিশরের’, কেউ বলছে ‘সৌদি’ বা ‘দুবাইয়ের’। আবার কেউ ‘মিসরি হলুদ খেজুর’ নামেও চালিয়ে দিচ্ছে।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, কাঁচা এ খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা, খাদ্য আঁশ, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। কাঁচা অবস্থায়ও এর পুষ্টিগুণ বিদ্যমান। তবে ফলটি মিষ্টি হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমাণ বুঝে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ক্রেতারা বলছেন, বিদেশি নামে এভাবে দেশি-বিদেশি পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণা বন্ধে বাজার মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন।