টাকা দিয়ে জমি ক্রয়, বৈধভাবে দলিল সম্পাদন এবং জমি মেপে বুঝে নেওয়ার পরও নিজের সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারছেন না এক প্রবাসী। আদালতে আইনি লড়াইয়ে একাধিকবার অনুকূলে রায় পেলেও জমি দখলে বাধা, হুমকি-ধমকি ও পেশীশক্তি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে জমির বিক্রেতা ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামে।
জানা গেছে, গ্রামের প্রবাসী সবুজ হোসেন ২০২৩ সালের ১৯ জুন প্রতিবেশী আব্দুল মান্নানের কাছ থেকে গাব্দেরগাঁও মৌজার ৪০৮ নম্বর দাগের ৮ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে ক্রয় করেন। দলিল সম্পন্নের পর জমি মেপে বুঝে নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে সরকারি সড়কের পাশে হওয়ায় জমিটির বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেলে সেটি পুনরায় দখলে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন বিক্রেতা আব্দুল মান্নান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় সবুজ হোসেন ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর ফরিদগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে নিষেধাজ্ঞা মামলা (নং-৩৮০/২০২৩) দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর পক্ষে আদেশ দেন।
পরে জমি ফেরত পাওয়ার দাবিতে আব্দুল মান্নানের স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান ২০২৪ সালের ২ মে একই আদালতে অগ্রক্রয় (হকশুফা) মামলা (নং-১৩৫/২০২৪) দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতে পরাজয়ের পরও বিরোধের অবসান হয়নি। বরং জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে প্রবাসী সবুজ হোসেন ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগীর মা খতেজা বেগম বলেন, “আমার ছেলে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে জমিটি কিনেছে। বিক্রেতা নিজেই টাকা নিয়ে জমি বিক্রি করেছেন। এখন আবার জমি ফেরত নিতে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। বাড়িতে এসে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে আব্দুল মান্নান প্রথমে বিক্রয়কৃত জমির পরিবর্তে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুকুরের অংশ দেখিয়ে দাবি উপস্থাপন করেন। পরে সাংবাদিকদের সামনে দলিলের দাগ ও খতিয়ান মিলিয়ে দেখানো হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে ওই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি কবির হোসেন বলেন, “বিদ্যালয়ের সম্পত্তির সঙ্গে ওই দলিলের কোনো মিল নেই। আব্দুল মান্নান ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। একজন প্রবাসীর সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মৃধা বলেন, “সবুজ হোসেনের ক্রয়কৃত জমির দলিল সঠিক। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিজের বিপক্ষে গেলেই আব্দুল মান্নান সালিশ মেনে নেননি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৈধভাবে ক্রয় করা জমি নিয়ে একজন প্রবাসীকে হয়রানি করা দুঃখজনক। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিরোধের স্থায়ী সমাধান এবং প্রবাসীর পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।