চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের একটি সাব-স্টেশনে ঢুকে এক লাইনম্যানকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় লাইনম্যানকে গুরুতর আহত করে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় একটি মামলা দিয়েছে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২।
বুধবার দুপুরে থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান।
ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইফুল আলম মামলায় উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ উপকেন্দ্র-১ এর আওতাধীন উত্তর ধানুয়া গ্রামে বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করতে যান লাইনম্যান গ্রেড-১ মো. ইব্রাহীম ও গ্রেড-২ মো. আব্দুল কাদের। এ সময় স্থানীয় হঠাৎ সাবস্টেশনের ভেতরে অন্তত ১০-১২ জন লোক ঢুকে লাইনম্যানদের উপর চড়াও হয়।
হামলাকারীরা একপর্যায়ে কর্তব্যরত লাইনম্যান গ্রেড-১ মো. আব্দুল কাদেরকে উঠিয়ে উত্তর ধানুয়া গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছে থাকা ২৩,৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং হাতের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে নেটওয়ার্কম্যান কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে, ধানুয়া গ্রামের মো. জাফর মিজি, মো. ফারুক পাটোয়ারী, মো. জসিমসহ অজ্ঞাতনামা আরও অনেকেই।
এদিকে ধানুয়া গ্রামবাসী বলছেন, কয়েকদিন ধরে লোডশেডিং ও বিদ্যুৎতের বিল বেশি আসছে। একাধিকবার সাব-স্টেশনে জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে উত্তেজিত জনতা এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলেন, উপকেন্দ্রের সকল যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ থাকে। উত্তেজিত জনতা যন্ত্রপাতিতে হস্তক্ষেপ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লোকজনের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত। জনসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে আহত করা দেশের প্রচলিত আইনে মারাত্মক অপরাধ।
এ ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ আইন ও দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।