বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার মানেই প্রকৃতির এক অপার বিস্ময়। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, ঝরনা, আধুনিক স্থাপনা এবং সুস্বাদু সামুদ্রিক খাবারের সমন্বয়ে এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আনন্দ ভ্রমণ ২০২৬ (৪জুন থেকে ৮জুন) কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। সেই সফরে সমুদ্রের গর্জন, দৃষ্টিনন্দন রেলওয়ে স্টেশন, প্রাণচঞ্চল শহর, ইনানি সৈকত, হিমছড়ি এবং ভাজা মাছের স্বাদ মিলেমিশে হয়ে উঠেছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
কক্সবাজার পৌঁছেই চোখে পড়ে দেশের সবচেয়ে নান্দনিক রেলওয়ে স্টেশন। ঝিনুকের আদলে নির্মিত বিশাল এই স্থাপনাটি যেন পর্যটকদের স্বাগত জানানোর জন্যই দাঁড়িয়ে আছে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মুহূর্তেই মন কেড়ে নেয়। স্টেশনের সৌন্দর্য দেখে মনে হয়, এটি শুধু একটি যাতায়াত কেন্দ্র নয়, বরং কক্সবাজারের নতুন পরিচয়ের প্রতীক।
শহরে প্রবেশ করতেই দেখা যায় পর্যটকদের ব্যস্ত পদচারণা। সারি সারি হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানপাট আর যানবাহনের কোলাহল শহরটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। তবে এই ব্যস্ততার মাঝেও সমুদ্রের বাতাস যেন এনে দেয় এক প্রশান্তির ছোঁয়া। বিকেলের দিকে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায় অসংখ্য মানুষ সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি গড়ছে। দূরে অস্তগামী সূর্যের রক্তিম আভা পুরো সৈকতকে রাঙিয়ে তোলে এক অপার্থিব সৌন্দর্যে।
পরদিন যাত্রা ইনানি সৈকতের উদ্দেশ্যে। মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে যেতে যেতে একদিকে পাহাড় আর অন্যদিকে সমুদ্রের দৃশ্য হৃদয়কে আন্দোলিত করে। ইনানি সৈকতের বিশেষ আকর্ষণ প্রবাল পাথর। স্বচ্ছ জলরাশি আর পাথরের সারি সৈকতটিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ। এখানে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বিশালতা অনুভব করলে মানুষ নিজের ক্ষুদ্রতাকেই যেন নতুন করে উপলব্ধি করে।
ইনানি থেকে ফেরার পথে হিমছড়ি। পাহাড় আর সমুদ্রের যুগলবন্দিতে হিমছড়ি যেন প্রকৃতির এক শিল্পকর্ম। পাহাড়ের চূড়ায় উঠে নিচে তাকালে দেখা যায় নীল সমুদ্র আর আঁকাবাঁকা মেরিন ড্রাইভ। চারপাশের সবুজ প্রকৃতি এবং শীতল বাতাস মনকে করে তোলে উদার ও নির্মল। পর্যটকদের ভিড় থাকলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য সেখানে বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি।
কক্সবাজার ভ্রমণের আরেকটি আকর্ষণ সামুদ্রিক মাছের স্বাদ। সৈকতের পাশে সারি সারি দোকানে ভাজা রূপচাঁদা, লইট্টা, চিংড়ি ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের ঘ্রাণ ভেসে আসে। গরম গরম ভাজা মাছের সঙ্গে স্থানীয় মসলা ও লেবুর স্বাদ যেন ভ্রমণের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সমুদ্রের পাশে বসে ঢেউ দেখতে দেখতে মাছ খাওয়ার সেই মুহূর্ত সহজে ভোলার নয়।
কক্সবাজার শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়; এটি প্রকৃতি, সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও আনন্দের এক মিলনমেলা। সমুদ্রের গর্জন, ইনানির প্রবাল পাথর, হিমছড়ির পাহাড়, আধুনিক রেলওয়ে স্টেশন এবং সুস্বাদু ভাজা মাছ—সবকিছু মিলিয়ে কক্সবাজার হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার নাম। যে একবার এখানে আসে, তার হৃদয়ে কক্সবাজারের জন্য এক টুকরো ভালোবাসা চিরদিনের জন্য থেকে যায়। সেই সাথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি প্রেস ক্লাবের এর সভাপতি সোহেল রুশদী,সাধারণ সম্পাদক এম ,এ লতিফ, আনন্দ ভ্রমণ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক রহিম বাদশাসহ প্রেসক্লাব নেতৃবন্দের কাছে।