চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের গন্ধর্ব্যপুর গ্রামে প্রায় ৪০–৫০ বছর পর ওয়ারিশি সম্পত্তির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ভূমি সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, মতলব আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ওই সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী কাজী লাখী।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ভূমি সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, মতলব আদালতের মামলা নম্বর ১০২২/১৮। মামলার বাদী কাজী লাখী এবং বিবাদী অলিউল্লাহ গং। মামলাটি বর্তমানে বাদীর শুনানি পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান বাদী।
কাজী লাখীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গন্ধর্ব্যপুর গ্রামের মৃত তছর উদ্দিনের দুই ছেলে লুতা মিয়া ও বাদশা। তাদের মধ্যে বাদশা মিয়া বিবাহের ৬ মাস পর মৃত্যুবরণ করেন। অপর ছেলে লুতা মিয়ার পরিবার প্রায় ৪০–৫০ বছর আগে সিলেট চলে যায়। যাওয়ার সময় তাদের বাড়িঘর দেখাশোনার জন্য স্থানীয় একজনকে রেখে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
পরবর্তী সময়ে বাড়ির পাহারাদার ওই ব্যক্তিকে মাঠে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি লুতা মিয়া জানতে পারেন এবং এরপর তিনি ওই এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে দাবি করেন কাজী লাখী।
কাজী লাখী জানান, ২০১৫ সালে তার মা ফুলবানু এ সম্পত্তির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তাদের দাবি, সিএস রেকর্ড অনুযায়ী লুতা মিয়া বাড়ির প্রায় ৪৩ শতাংশ সম্পত্তির মালিক ছিলেন। এছাড়া মাঠে কনা ঝিকঝাক ইটভাটার পাশসহ আরও প্রায় দুই একর সম্পত্তি লুতা মিয়ার ওয়ারিশদের বলে দাবি করেন তিনি।
কাজী লাখীর দাবি, বর্তমানে গন্ধর্ব্যপুর গ্রামের মিজি বাড়ির অলিউল্লাহ ওই সম্পত্তি ভোগদখল করছেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকার মধ্যেই বুধবার তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ দেখতে পান বলে জানান।
পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে অলিউল্লাহর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তারা জায়গা পাবে, তবে আমার এই জায়গা ওই দাগ নম্বরে নয়। অন্য জায়গায় পাবে।” তার দখলে থাকা জায়গার দাগ নম্বর জানতে চাইলে অলিউল্লাহ বলেন, “আমার জায়গার দাগ নম্বর আমিও জানি না।”
মামলার বিবাদীদের মধ্যে নুর রহমানও রয়েছেন। নুর রহমানের পিতার নাম মৃত ওবায়দুল্লাহ পন্ডিত। কাজী লাখীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওবায়দুল্লাহ পন্ডিত তৎকালীন সময়ে দলিল লেখকের কাজ করতেন।
তবে সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা ও ভোগদখলের বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন। মামলাটি বাদীর শুনানি পর্যায়ে থাকায় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের দাবিকে চূড়ান্ত মালিকানা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।