
খবরে যেন স্বাস্থহানি না ঘটে


হাজীগঞ্জে গত কয়েকদিন বেশ কিছু লোকের মৃত্যু হয়েছে। প্রথমত বলা হচ্ছে এরা সবাই করোনা উপসর্গে মারা গেছেন। অন্যদিকে মৃত ব্যক্তিদের ছবি দিয়ে একাধিক আইডি থেকে পোস্ট দেয়া হয়েছে। কখনো একজনের, কখনো সবার ছবি দিয়ে একত্র করে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এভাবে ছবি সহ একই ব্যক্তির ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বিভিন্ন আইডি থেকে পোস্ট করার কারণে কি হচ্ছে তা আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই।
আমাদের জেনে রাখা উচিত, এভাবে যত্রতত্র পোস্ট দেওয়ার কারনে ভয়, আতঙ্ক ও মানসিক চাপে অনেকে ভেঙ্গে পড়ছেন। এতে অনেকের মৃত্যু ঝুঁকিও বাড়ছে। আমরা ইচ্ছে করলে মৃত ব্যক্তির নাম ঠিকানা ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির প্রতি আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে এবং মৃত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে পারি। গত দু-তিন দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট গুলো দেখে নিজেরও আতঙ্কগ্রস্ত হতে হয়েছে। মনে হয়েছে এই বুঝি হাজিগঞ্জটাই শেষ। একে একে সবাই মারা পড়ছেন। করোনার বাহিরেও ভয় আতঙ্ক ও মানসিক চাপে কিছু মানুষ মারা যাচ্ছেন এগুলি কিন্তু সুনির্দিষ্ট ভাবে কেউ বলছেন না।
গত ৬ জুন শনিবার চাঁদপুরের একটি স্থানীয় পত্রিকায় সিভিল সার্জন চাঁদপুর এর রেফারেন্স দিয়ে লিখা হয়েছে, চাঁদপুরেকরোনা ভাইরাসের ৬৫ দিনে এই পর্যন্ত চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে একজন ১১ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে মাত্র দুইজন করোনা পজেটিভ বাকিদের করোনা টেস্টে নেগেটিভ এসেছে। কিন্তু এখানে বাকিরা কি কারনে মারা গেল তার কোন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এই ব্যাখ্যাটা এখানে প্রয়োজন ছিল। এসময় করোনা সচেতনতার পাশাপাশি মনোবল দৃঢ় রাখা অপরিহার্য। কারণ মনোবল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে ।


আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা ‘মানষিক স্বাস্থ্য’ বলতে একটা বিষয় আছে। এবং প্রতি বছর মানুষিক স্বাস্থ্য দিবস পালন করাও হয়। কিন্তু আমরা কথা বলতে গিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন কিছু পোস্ট করতে গিয়ে কারো মানসিক স্বাস্থ্য হানি ঘটতে পারে এটা মোটেও মাথায় রাখিনা। তাই এই বিষয়টাও এখন থেকে আমাদের মাথায় রাখতে হবে।
সর্বোপরি এই করোনা মহামারী কালে মানুষ মনোবল হারাতে পারে এবং মানুষিক স্বাস্থ্য হানি ঘটতে পারে এমন কোন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া থেকে বিরত থাকাটাই সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে। সৃষ্টিকর্তা সবার সহায় হোন।।
সাংবাদিক, শিক্ষক ও চারুশিল্পী

























