
চাঁদপুরে পৃথক ঘটনায় দুই ভাইসহ সাতজনের মরদেহ উদ্ধার
কচুয়া দুই ভাই, হাজীগঞ্জে ২ জন, শাহরাস্তিতে ১ জন, ফরিদগঞ্জে দুই স্কুলছাত্রী


চাঁদপুরের চার উপজেলায় পৃথক ঘটনায় সাতজনের মৃতুর খবর পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলায় ইরি ধানে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যান দুই ভাই। শাহরাস্তি উপজেলায় স-মিলে গাছ কাটতে গিয়ে এক যুবক, হাজীগঞ্জে ছেলের সাথে অভিমানে মায়ের আত্মহনন ও নানার বাড়ীতে বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া একই দিনে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় পৃথক স্থান থেকে দুই স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
কচুয়া উপজেলায় সোমবার সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের শাসন খোলা গ্রামের বড় বাড়ীর পাশে ইরি-বোরো সেলু মেশিন দিয়ে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হন দুই ভাই। তারা হলেন, আবুল হাসানাত বকাউল (৩৫) ও খোরশেদ আলম বকাউল (৫০)। মুমূর্ষ অবস্থায় তাদেরকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তানভীর আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালে আনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার আগেই তারা মারা যান।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, দুই ভাই বাড়ির পাশে সেচ পাম্প (সেলু মেশিন) দিয়ে ধান খেতে পানি দিতে গিয়ে বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎপৃষ্ট গুরুতর আহত হয়।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবরটি আমারা পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে । নিহতদের পরিবার পক্ষ থেকে অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


দুপুরে শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলী বাজারে স-মিলে গাছ কাটতে গিয়ে মারা যান যুবক মো. কবির হোসেন। সে একই উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের নুনিয়া মাইজের বাড়ির বাসিন্দা। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুর আড়াইটায় স-মেইল গাছ কাটানোর সময় মেশিনে পড়ে যায়। তাকে স্থানীয়রা শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে সোমবার বিকালে হাজীগঞ্জ উপজেলার সুহিলপুর গ্রামে তাকরিম নামের এক শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। সে শাহরাস্তি উপজেলার করবা গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে। হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার পরিবার জানায়, সে নানার বাড়ীতে বেড়াতে গিয়ে পানি পড়ে মারা যায়। তার বয়স হয়েছিল ২ বছর।
অন্যদিকে হাজীগঞ্জে ছেলে ও ছেলের বউয়ের সাথে অভিমান করে পারভীন বেগম (৪০) নামের মা আত্মহনন করেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের তারালিয়া গ্রামের জমাদ্দার বাড়িতে পারিবারিক কলহের জেরে কীটনাশক খেয়ে পেলেন তিনি। পারভীন বেগম ওই বাড়ির মো. মনির হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দা সফিক ও সাঈদ বলেন, সকাল থেকেই পারিবারিক বিষয় নিয়ে ছেলে মিজানুর রহমান ও ছেলের বউ রিয়ার সাথে পারভিন বেগমের ঝগড়া-বিবাদ চলে আসছিল। এক পর্যায়ে ছেলে ও ছেলের বউয়ের ওপর অভিমান করে তিনি কীটনাশক পান করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বজনেরা। পরে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পারভীন বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যান।’
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই পারভীন বেগম মারা যান।
হাজীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না পেলে এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে।
এছাড়া একই দিনে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় পৃথক স্থান থেকে দুই স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উপজেলার রামদাসেরবাগ ও পশ্চিম পোঁয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ওই দুই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, রামদারসেরবাগ গ্রামের বাবুল মোল্লা ও রিনা আক্তার দম্পত্তির মেয়ে রাখি আক্তার (১৫) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণিতে পড়–য়া শিক্ষার্থী। সে সোমবার (২৪) সকালে নিজেদের ঘরের বাতরুমের ঝর্ণার সাথে গলায় ফাঁস দেয়। পরে রাখির মা তার মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার দিলে প্রতিবেশিরা এসে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
অপরদিকে, ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম পোঁয়া গ্রামে বসত ঘরের আঁড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় মাঈশা আক্তার (১৩) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সে ওই গ্রামের মো. মোস্তফা ও জেসমিন আক্তার দম্পত্তির মেয়ে । সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া শিক্ষার্থী। মাঈশার মা বলেন, আমি বাড়ির কাজের জন্য ঘরের বাহিরে ছিলাম। কিছুক্ষণপর ঘরে এসে দেখি আমার মেয়ে ঘরের আঁড়ার সাথে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলে আছে। পরে আমার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এসে পুলিশকে খবর দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, খবর পেয়ে দুটি ঘটনাস্থল থেকে রাখি আক্তার ও মাঈশা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুটি ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।



























