
আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই: সনাকে বক্তারা


দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করা এবং সেবাগ্রহীতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেবাখাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নতুন প্রকল্প পার্টিসিপেটরি অ্যাকশন এগেইনস্ট করাপশন: টুওয়ার্ডস্ ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলি (প্যাকটা) এর আওতায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করে সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতার আলোকে তৃণমূলপর্যায়ের সেবাদানকারী নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানসমূহে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে চাঁদপুর নুুরিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুর-এর শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গতকাল ২৫ নভেম্বর ২০২১ অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি)-গ্রুপ গঠন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চাঁদপুরের আয়োজনে উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন সনাকের সাবেক সভাপতি এবং প্যাক্টা পাইলটিং বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক কাজী শাহাদাত। এসময় তিনি বলেন, আমরা আইনের শাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই। এজন্য সকলকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, নুরিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়। এই স্কুলের শিক্ষার মান কিভাবে আরও বৃদ্ধি করা যায় সে লক্ষ্যেই আমরা এই স্কুল কেন্দ্রিক একটি অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপ গঠন করতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে যাচাই বাছাই করে আজকের এই কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আগে নিজের কাজে স্বচ্ছতা আনতে হবে, নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে হবে, তারপর অন্যের বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হবে। আমরা কোন ব্যক্তির দুর্নীতি নিয়ে অঙ্গুলি নির্দেশ করিনা, আমরা একটি প্রতিষ্ঠানের সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ঐ প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে থাকি। আমরা আশা করছি আপনারা যারা এসিজি’র সদস্য হয়েছেন তারা একটু বিদ্যালয়মুখী হবেন এবং বিদ্যালয়ের সমস্যা চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে সহযোগিতা করবেন।
পরে তিনি চাঁদপুর নুরিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রিক ১৫ সদস্য বিশিষ্ট অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি)-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। সভায় উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে মোঃ জসিম উদ্দীন খানকেকে সমন্বয়ক এবং লিটন গাজী ও বিথী নন্দীকে সহ-সমন্বয়ক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। গ্রুপের অন্য সদস্যরা হলেন, উৎফল চন্দ্র দাস, জান্নাতুল ফেরদৌসী, সঞ্জয় চন্দ্র মজুমদার, রোজিনা আক্তার, মোঃ আক্তার বেপারী, অনামিকা নন্দী, মোঃ ফজলুর রহমান রুবেল, মোঃ জুয়েল হোসেন, স্বর্ণালী দাস, রাজীব ভৌমিক, কুলছুমা আক্তার ও মোঃ আবু তৈয়ব গাজী।
সভায় অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি) গঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, এটা কি, কেন গঠন করা হবে এবিষয়ে বক্তব্য রাখেন টিআইবি’র সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের কোঅর্ডিনেটর কাজী শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আজ থেকে আপনারা আমরা সবাই টিআইবি পরিবারের সদস্য। টিআইবি কর্মী থেকে শুরু করে আমাদের সবাইকে একটি গাইডলাইন মেনে চলতে হয়। সত্যিকার অর্থে এই তরুণদের সান্নিধ্যে আসলে আমাদের কাজের ক্ষেত্রে আমরা আবার নতুন করে অুনপ্রাণিত হই। তিনি বলেন, অনুপ্রেরণা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আামদের এই বাংলাদেশ বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। আমার এই দেশটাকে নিয়ে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি। প্রত্যেক মানুষের জীবনে লালিত একটা স্বপ্ন থাকে। আর স্বপ্ন সেটাই যেটা আপনাকে ঘুমোতে দেয় না। কিন্তু আমরা বিনা চ্যালেঞ্জে আমাদের স্বপ্নকে পায়ের নিচে পৃষ্ঠ করে দিচ্ছি। তিনি বলেন, করোনা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে আসলে জীবনটা কত কঠিন। আমরা আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই। তিনি আরো বলেন, আপনারা প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তীতে ঐ প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের জন্য ভূমিকা পালন করবেন। আপনাদের এসকল কার্যক্রম বান্তবায়ন করার জন্য সনাক-টিআইবি সব ধরণের সহযোগিতা করবে।


টিআইবি চট্টগ্রাম বিভাগের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মোঃ জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর নুরিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু তাহের তপাদার, সনাক সদস্য রফিক আহমেদ মিন্টু, চাঁদপুর ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ মৃনাল কান্তি দাস প্রমুখ। অনুভূতি ব্যক্ত করেন এসিজি গ্রুপের নবনির্বাচিত সমন্বয়ক মোঃ জসিম উদ্দিন খান, সহ-সমন্বয়ক লিটন গাজী ও বিথী নন্দী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সনাক-চাঁদপুরের ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্রুপের দলনেতা, সহ-দলনেতাসহ সদস্যবৃন্দ। উল্লেখ্য, টিআইবি’র নতুন প্রকল্প প্যাকটা এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সনাকের উদ্যোগে চাঁদপুরে গত তিনদিনে মোট চারটি অ্যকটিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি) গঠন করা হয়। বাকী তিনটি এসিজি গঠন করা হয় যথাক্রমে সদর উপজেলা ভূমি অফিস, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, চাঁদপুর এবং গুয়াখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। চারটি গ্রুপে মোট ৫৬ জনকে সদস্য করা হয়েছে।


























