
শিশুদের করোনা ঝুঁকি কতটা


তরঙ্গ বা ঢেউ মহামারির একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রতিটি ঢেউ বিপুলসংখ্যক মানুষকে আক্রান্ত করে। ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ নামে অভিহিত মহামারিটি ‘এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা এ’ ভাইরাসের কারণে একটি অস্বাভাবিক ও মারাত্মক ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারি ছিল। এমনকি সেই ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ মহামারিতেও তরঙ্গ ছিল।
১৯১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ওই মহামারির সময় চারটি তরঙ্গ দেখা গিয়েছিল এবং তা ৫০ কোটি মানুষকে সংক্রমিত করেছিল, অর্থাৎ তৎকালীন বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংক্রমিত হয়েছিল। মৃতের সংখ্যা ২০ কোটির বেশি বলে অনুমান করা হয়। যদিও এ ধারণাটি রক্ষণশীল এবং অনেকের ধারণা মৃতের সংখ্যা আরও বেশি ছিল। এটি ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক মহামারিগুলোর একটি। তাই বর্তমানে করোনা মহামারিতেও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভাইরাসের এ তরঙ্গ বা ঢেউয়ের কারণগুলোর একটি হলো ভাইরাসজনিত এবং দ্বিতীয়টি হলো মনুষ্য-সম্পর্কিত। ভাইরাসটির নিজস্ব রূপান্তর (মিউটেশন) আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আর দ্বিতীয়টি আমরা আমাদের আচরণ ও শিষ্টাচার অনুসরণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।


দেশে কোভিড-১৯-এর প্রথম ঢেউয়ের পর আমরা দ্বিতীয় ঢেউয়ের কবলে ছিলাম। দ্বিতীয় ঢেউ কমতে না কমতেই তৃতীয় তরঙ্গ হানা দিয়েছে। এ কারণে এখন কয়েকটি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে- ১. তীব্রতা ও ভয়াবহতা আরও উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে এবং ২. শিশুরা ব্যাপকহারে সংক্রমিত হতে পারে। ইতোমধ্যেই এর আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
কোভিড-১৯-এর প্রথম তরঙ্গে প্রাথমিকভাবে প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে আক্রান্তের হার ও তীব্রতা বেশি ছিল। কিন্তু শিশুদের মাঝে আক্রান্তের হার ছিল খুবই কম। দ্বিতীয় তরঙ্গে বেশিসংখ্যক অল্প বয়সি ব্যক্তি (৩৫-৪৫ বছর) ও শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা ছাড়াও গুরুতর রোগে আক্রান্ত হতে দেখা গেছে।
সূত্র: যুগান্তর
H/N



























